বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে বিচার বিভাগে। এ কারণে বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করে তারা সবচেয়ে বেশি জনগণের ওপর খুন, হত্যা ও নির্যাতন করেছেন। সাবেক বিচারপতি সামছুউদ্দিনকে দিয়ে নানা অপকর্ম করিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রংপুরের মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিঠাপুকুর উপজেলা শাখা আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ওপর কী পরিমাণ নির্যাতন করেছেন, যা বাংলাদেশের জনগণ জানেন। এরপর তারা লাশগুলো কোথায় গুম করেছেন, তার হদিস নেই।
তিনি আরও বলেন, মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর একটি উর্বর জায়গা, কোরআনের পাখি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মিথ্যা মামলায় সাতজন তাজা প্রাণ দিয়েছেন। এ উপজেলার পাশর্^বর্তী উপজেলার সন্তান আবু সাইদ দুই হাত তুলে বুকের তাজা প্রাণ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার আমির আসাদুজ্জামান শিমুলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান।
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হাসনাত আবদুল হালিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী অঞ্চল পরিচালক ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের দায়িত্বশীল মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলার আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ও সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হকসহ প্রমুখ।
পথসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার ১৭টি ইউনিয়নের নেতাকর্মী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগসহ অন্য নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকেলে রংপুরের পীরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পথসভায় বলেছেন, যারা এ দেশের নাগরিক তাদের ধর্মের ভিত্তিতে আমরা কাউকে ভাগ করব না। কোনো অধিকার নেই। আল্লাহ এ সুযোগ দেননি। অবশ্যই আমরা সবাই সমান মর্যাদার অধিকারী। এই সংখ্যালঘু শব্দটাকে লাগিয়ে ৫৩ বছরে অনেক ফায়দা লুটিয়েছে। আমরা সংখ্যালঘু শব্দটাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব। আমরা এটা থাকতেই দেব না। কীসের সংখ্যালঘু? এই কথা বলে মানুষের মনের ওপর চাপ দিয়ে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। আমরা তাদের বলি আপনারা এবার ঘুরে দাঁড়ান। আপনারা সাদাকে সাদা বলুন। আর কালাকে কালা বলুন। কারা আপনাদের সর্বনাশ করেছে তাদের নাম বলুন। সম্মানের সঙ্গে আমরা ইনশাআল্লাহ একসঙ্গে বসবাস করব। প্রত্যেক মানুষকে তার যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজ তুলে দেবে। সরকার দেখবে না সে কোন দলের লোক।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুরে গাইবান্ধা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচন সংস্কার কমিটি হয়েছে। তারা কাজ করছেন। নির্বাচনের জন্য আমরা অনেক ধৈর্য ধরেছি। আরও কয়েকটা দিন ধৈর্য ধরতে পারব। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আগামী বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন করা সম্ভব হতে পারে। নির্বাচনের কাজ করতে সংস্কার কমিটির আরও এক বছর সময় লাগবে। আমরা দেখতে চাই, তারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। এ সংস্কার কাজে জামায়াত সহযোগিতা করবে। তবে জামায়াত কতটা আসনে প্রার্থী দেবে, তা নির্বাচন সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
