বান্দরবানের লামায় ত্রিপুরা পাড়ায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে পুড়ে যাওয়া ঘর পুনর্নির্মাণসহ সব ধরনের সহায়তার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
অগ্নিসংযোগের নিন্দা জানিয়ে বার্তায় বলা হয়, ‘ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তারা গেছেন। সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা করেছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।’
এদিকে দুর্বৃত্তদের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ১৭টি বসতঘরসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। গতকাল বিকেলে অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে যান তারা।
এর আগে দুপুরে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে তংগোঝিরিপাড়ায় দুর্বৃত্তদের লাগানো আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি গ্রাম পরিদর্শনে যান বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন এবং জেলার পুলিশ সুপার শাহিদুল্লাহ কাউসারের নেতৃত্বে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী বাসস্থান লামার একটি নিকটবর্তী গ্রামে এবং আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলো ছিল তাদের অস্থায়ী টং ঘর।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা জানান, লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের নতুন তংগোঝিরিপাড়ায় এসপি বাগান এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ১৮ পরিবার বসবাস করত দীর্ঘদিন ধরে। পাড়াটির নাম দেওয়া হয়েছিল তংগোঝিরি নতুনপাড়া। বড়দিনের উৎসব উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পাড়ার সবাই পাশের তংগোঝিরিপাড়া গির্জায় প্রার্থনায় যান। এ সময় কেউ না থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা পাড়ার বসতঘরগুলোতে আগুন লাগিয়ে দিলে ১৭টি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বান্দরবানের পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে সাত এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, ‘পাড়ায় ১৯টি পরিবারের মধ্যে ১৭টি ঘর আগুনে পুড়ে গেছে। পুলিশসহ প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘুরে দেখেছে। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কম্বল, কাপড়, চাল, কিছু শুকনো খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাদের ঘরবাড়ি ছিল, তাদের ঘরবাড়ি তৈরিতে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।’
