ফুলকপির কেজি ৪ টাকা চাষির মাথায় হাত

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:৪২ এএম

বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান হাটে প্রতি মণ ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজি ফুলকপির পাইকারি মূল্য মাত্র ৪ টাকা। গতকাল শনিবার সকালে এই চিত্র চোখে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সবজি মোকাম মহাস্থান হাটে। তবে গত বুধবার ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ২ টাকা কেজি দরে। সেদিনের মতো শনিবারও অনেকেই হাটে কপি বিক্রি না করেই ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন। হঠাৎ-ই শীতকালীন সবজি ফুলকপির দাম পতন হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। কোনো কারণ ছাড়াই ফুলকপির দাম কমায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহের তুলনায় ক্রেতা কম থাকায় এ অবস্থা। অন্যদিকে পাতাকপি শনিবার বিক্রি হয়েছে পাইকারি ৫ টাকা করে ৫০০ টাকা দরে। হাটে ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি করে পরিবহন খরচ উঠছে না বলেও দাবি করেছেন চাষিরা।

শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, শীতের সবজিতে মহাস্থান হাট ভরপুর। সব সবজির দাম কমেছে আশাতীতভাবে। এর মধ্যে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। বাঁধাকপি ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শিবগঞ্জের মোকামতলা এলাকার চাষি শফিকুল জানান, গত সপ্তাহে প্রতি মণ ফুলকপি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হয়। এখন তার অর্ধেক দামে বেচাকেনা হচ্ছে। তবে গত বুধবার দাম আরও কম ছিল। হাটে কপির দাম কম হাওয়ায় তারা জমিতেই ফুলকপি কেটে আলু রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শিবগঞ্জের অনন্তবালা গ্রামের কৃষক সেলিম হোসেন জানান, মহাস্থান হাটে ১০ মণ ফুলকপি এনেছিলেন বিক্রির জন্য। ১৬০ টাকা মণ দরে তা বিক্রি করেছেন। যার অর্ধেক পরিবহন খরচ। আবার হাটে ফুলকপির সরবরাহ বেশি, কিন্তু ক্রেতা কম।

সদরের শেখেরকোলা গ্রামের সবুজ হোসেন মহাস্থান হাটে ১৪ মণ ফুলকপি এনেছেন। দামে কম হওয়ায় গ্রামে নিয়ে পাড়ায় বিক্রি করবেন বলে তা ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। মহাস্থান হাটের কেয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেন বলেন, ফুলকপি প্রচুর আমদানি হলেও সে তুলনায় ক্রেতা নেই। যার কারণে দরপতন ঘটেছে। তিনি বলেন, গত বুধবারের তুলনায় শনিবার দাম কিছুটা বেশি। আজ (গতকাল) ৪ টাকা দরে পাইকারি ফুলকপি কিনেছি। এগুলো ঢাকার বাজারগুলোয় পাঠানো হবে।

এ প্রসঙ্গে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল হান্নান জানান, এ উপজেলায় এবার কপির চাষ বেশি হয়েছে। ফলে বাজারে কপির সরবরাহের তুলনায় ক্রেতা কম। আর ক্রেতা কম থাকায় বাজারে সবজিটির দাম পড়ে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত