সফটওয়্যার সমস্যায় ভূমি সেবায় চরম ভোগান্তি

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:৪৮ এএম

ভূমিসংক্রান্ত কাজ সহজে ও দ্রুত করার লক্ষ্যে মিউটেশন সিস্টেম বাস্তবায়নের জন্য সম্প্রতি সফটওয়্যারের দ্বিতীয় সংস্করণের কাজ শুরু করে ভূমি মন্ত্রণালয়। এতে ভূমি সেবায় চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছে জামালপুরের সেবাগ্রহীতারা। পরীক্ষামূলক চালু হলেও কিছু জটিলতার কারণে গ্রাহকরা তা ব্যবহার করতে পারছেন না। ই-পর্চা, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর দিতে না পারায় জমি বেচাকেনায় প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রেজিস্ট্রার।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভূমির মালিকানা পরিবর্তন অথবা সংশোধন অনুরোধ প্রক্রিয়া সহজে ও দ্রুত করার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় মিউটেশন সিস্টেম বাস্তবায়ন কাজ শুরু করে। গত ২৬ নভেম্বর থেকে ভূমিসংক্রান্ত ৫টি সফটওয়্যার একত্র করে মান উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের আওতায় ৪টি সফটওয়্যারের মানোন্নয়ন এবং একটি নতুন উদ্ভাবিত সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য পরীক্ষামূলক উন্মুক্ত করা হয়। তবে কিছু জটিলতা থাকায় সাধারণ মানুষ ই-পর্চা, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করসহ ভূমিসংক্রান্ত কাজ করতে পারছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত ই-মিউটেশন সিস্টেম, ই-পর্চা সিস্টেম এবং ভূমি উন্নয়ন কর সিস্টেম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় ভূমি মন্ত্রণালয়। পরে ১ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় পরীক্ষামূলক চালু করলে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা গেলেও অ্যাকাউন্ট লগইন করা যাচ্ছে না। এছাড়াও আগের সফটওয়্যারের ই-পর্চার খতিয়ানে ‘টাইপিং মিস্টেক’ জনিত ভুল হলে, সেগুলো জেলা রেকর্ডরুম থেকেই সমাধান করা যেত। কিন্তু নতুন সফটওয়্যার ভিন্ন পদ্ধতির। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে ভূমি সেবা। এদিকে ই-পর্চা, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর দিতে না পারায় কমে গেছে জমি রেজিস্ট্রিও।

সরেজমিনে পৌর ভূমি অফিস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিসে সেবাগ্রহীতা নেই বললেই চলে। অফিস জনশূন্য ও শুনশান। অফিসের পশ্চিম পার্শ্বে গোলঘরে কয়েকজন সেবাগ্রহীতা বসে রয়েছেন।

পৌর ভূমি অফিসে শহরের বাগানবাড়ী এলাকার আব্দুল আউয়াল এক মাস থেকে খাজনা দেওয়ার জন্য ঘুরছেন। তিনি বলেন, ‘এক খ- জমি কিনেছি। জমির মালিক খাজনা পরিশোধের দায়িত্ব দিয়েছেন। সফটওয়্যার সমস্যার কারণে খাজনা দিতে পারছি না, রেজিস্ট্রিও হচ্ছে না। জমি বিক্রির টাকায় তিনি ঋণ পরিশোধ করবেন। রেজিস্ট্রি ছাড়া টাকাও দিতে পারছি না।’

 এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুমী আক্তার বলেন, ‘ভূমিসংক্রান্ত সফটওয়্যারের অটোমেশনের কাজ শেষে পরীক্ষামূলক চালু হয়েছে। কিছু জটিলতা থাকায় কাজে একটু সমস্যা হচ্ছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে সফটওয়্যার সচল হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত