চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং বলেছেন, চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। খ্রিষ্টীয় বর্ষবরণ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে গত মঙ্গলবার শি জিন পিং এ কথা বলেন। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তার ভাষণ সম্প্রচার করে। তবে পুনরেকত্রীকরণের উদ্যোগটি কবে নেওয়া হবে সেটি স্পষ্ট করেননি তিনি।
এদিকে শি জিন পিংয়ের এমন বক্তব্যের পরও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেছেন, চীনের সঙ্গে সমতা, মর্যাদা ও সুশৃঙ্খল পারস্পরিক সহযোগিতায় আগ্রহী তাইওয়ান।
আর এ বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে বেইজিংয়ের অংশ হিসেবে স্বীকার করেনি। দেশটি তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেও ‘এক চীন নীতি’র সমর্থন করে।
বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে দাবি করে থাকে চীন। সেই সে ঙ্গ তাইওয়ানের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ থেকে পিছপা না হওয়ার কথাও জানিয়েছে বেইজিং।
মঙ্গলবার নববর্ষের ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তাইওয়ান প্রণালির দুপাশের মানুষ একই পরিবারের অংশ। কেউ আমাদের এ রক্তের বন্ধন ছিন্ন করতে পারবে না। কেউ আমাদের মাতৃভূমির পুনরেকত্রীকরণের ঐতিহাসিক ধারাকে বন্ধ করতে পারবে না।
এএফপি বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথের কয়েক সপ্তাহ আগে তাইওয়ান নিয়ে এমন কড়া বার্তা দিলেন শি জিন পিং।
তাইওয়ান নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ বেশ পুরনো। যদিও চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করা তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র, তবে তাইওয়ান হলো ওয়াশিংটনের অন্যতম কৌশলগত মিত্র এবং অস্ত্রের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা। তাই তাইওয়ান নিয়ে চীন-যুক্ত রাষ্ট্রের মধ্যে নানা সময়ে বিবাদ দেখা দেয়।
এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেছেন, চীনের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ সহযোগিতায় আগ্রহী তাদের ভূখণ্ড। গতকাল বুধবার ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লাই বলেছেন, চীনা পর্যটক বা শিক্ষার্থীদের তাইওয়ানে প্রবেশে বাধা দিয়ে সাধারণ মিথস্ক্রিয়াতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে বেইজিং। অথচ চীনে প্রবেশে নিজেদের নাগরিকের ওপর এমন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি তাইওয়ান।
২০২৪ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিকবার চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা আহ্বান জানিয়েও উপেক্ষিত হয়েছেন লাই। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে লাই একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী।
লাই বলেন, তবে আমি আবারও বলছি, পারস্পারিক মর্যাদার ভিত্তিতে চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর ও সুশৃঙ্খল সহযোগিতায় আগ্রহী তাইওয়ান।
প্রায় নিয়ম করে তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক মহড়া পরিচালনা করে থাকে বেইজিং। গত বছর তাইওয়ানের খুবই কাছে দুবার সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছিল তারা।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার যৌথ সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে লাই বলেন, কর্র্তৃত্ববাদী দেশগুলোর দাপট যত বাড়বে, গণতান্ত্রিক দেশগুলোকেও তত বেশি ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
নতুন বছরে বৈশ্বিক শান্তি, গণতান্ত্র ও উন্নতি প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে একতা আরও দৃঢ় হবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন লাই চিং-তে।
