সারজিসের আশ্বাসে সড়ক ছাড়লেন অভ্যুত্থানে আহতরা

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:২৪ এএম

উন্নত চিকিৎসা ও হাসপাতালে ভালোমানের খাবারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন গণঅভ্যুত্থানে আহতরা। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা পুনরায় হাসপাতালে ফিরে যান।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আন্দোলনকারীরা হাসপাতালে ফিরে যান। এর আগে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে হাসপাতালের সামনে শাহবাগ থেকে ফার্মগেটমুখী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।

চিকিৎসাধীন আহতদের অভিযোগ, হাসপাতালে তারা উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এজন্য সড়কে নেমেছেন। এ সময় তারা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. রেজাউর রহমানের পদত্যাগ দাবি করেন।

পরে ঘটনাস্থলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ। তারা উন্নত চিকিৎসার নিশ্চয়তা ও চিকিৎসায় অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে আহতরা অবরোধ তুলে নিয়ে কেবিনে ফিরে যান।

সড়ক অবরোধের কারণে সড়কের এক পাশে যানচলাচল বন্ধ থাকে। এই সড়কসংলগ্ন আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ‘তারা কেন সড়ক অবরোধ করেছে, আমি জানি না। আমার কাছে কোনো দাবি-দাওয়া নিয়ে আসেননি। এলে আমি সমাধানের চেষ্টা করতাম।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, ‘আহতদের অভিযোগ, হাসপাতাল পরিচালক তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। তারা পরিচালকের পদত্যাগ করেছেন। পরে তাদের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।’

এই কর্মকর্তা জানান, ‘কাল শনিবার বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবে। পরে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আহতরা হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ২২টি কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’

এর আগে গত ১৪ নভেম্বর ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতরা। সেদিন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ফিরে আসার সময় সব আহতদের দেখতে না যাওয়ায় বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। তারা উপদেষ্টার গাড়ি আটকে দেন। কিছু সময় পর উপদেষ্টা ওই হাসপাতাল ত্যাগ করলে বেলা ১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা শ্যামলী থেকে আগারগাঁও যাওয়ার সড়কে গিয়ে অবস্থান নেন।

পরে রাত ৩টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করতে যান উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ও যুব উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাদের আশ্বাসে প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়েন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত