শীতে ফুলকপি-বাঁধাকপির ছড়াছড়ি, থাইরয়েডের ঝুঁকি কতটা?

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৪৮ পিএম

শীতকাল মানেই বাজারে ফুলকপি বাঁধাকপির ছড়াছড়ি। আর এই শীতে বাঁধাকপি বা ফুলকপির তরকারি না হলে যেন খাবার জমে না। তবে অনেকেই কিছু শারীরিক অসুস্থতার কারণে ফুলকপি বাঁধাকপি খেতে চান না। বিশেষ করে সমস্যা তৈরি হয় থাইরয়েড থাকলে। কারণ এই জাতীয় সবজি থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। তবে কী থাইরয়েডের সমস্যায় বাঁধাকপি-ফুলকপি খাওয়া বাদ দিতে হবে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েডের সমস্যা বর্তমানে কম বেশি সকলের রয়েছে। অথচ, থাইরয়েডের নিয়ে সচেতনতার অভাব দেখা যায় সবার মধ্যে। মূলত পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যেই থাইরয়েডের সমস্যা তুলনামূলক বেশি। অনেকের ধারণা থাইরয়েড ধরা পড়লে খাওয়া-দাওয়ায় বাধা নিষেধ তৈরি হয়। কিন্তু সত্যি কী তাই?

আর এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রথমে জানতে হবে থাইরয়েড কী? রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ যদি বেড়ে যায়, তখন তাকে বলে ‘হাইপারথাইরয়েডিজম’ এবং হরমোনের পরিমাণ কমে গেলে বলা হয় ‘হাইপোথাইরয়েডিজম’।

হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে শরীরের থাইরয়েড গ্ল্যান্ড পরিমাণ মতো হরমোন ক্ষরণ করে না। তাই চুল পড়ে যাওয়া, হৃদস্পন্দন কমে যাওয়া, বিপাক হার কমে ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। দুই ক্ষেত্রেই খাওয়া-দাওয়ায় বিশেষ নজর দিতে হয়। থাইরয়েড বেড়ে গেলে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার যেমন পনির, চিজ ডায়েট থেকে বাদ দিতে হবে। বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, ছোলা জাতীয় খাবার থাইরয়েড বাড়িয়ে দেয়। আবার মুলা, মিষ্টি আলু, চিনাবাদামও খাওয়া যায় না।

ফুলকপিতে গয়ট্রোজেন নামে এক ধরনের রাসায়নিক থাকে, যা থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। সে জন্যই ফুলকপি বা বাঁধাকপির মতো সবজি খেতে বারণ করা হয়। ফুলকপি, বাঁধাকপি বা পালং শাক যদি ভালো করে সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিয়ে তারপর রান্না করে খাওয়া যায়, তাহলে সমস্যা কম হবে।

থাইরয়েড থাকলে এমন খাবার খেতে বলা হয়, যাতে কপার ও আয়রন বেশি পরিমাণে আছে। টাটকা মাংস, মাছ, ডিম, গমের আটা, কাজুতে প্রচুর পরিমাণে কপার ও আয়রন আছে। ভিটামিন সি আছে এমন ফল যেমন— লেবু, পেয়ারা, ক্যাপসিকাম খেতে পারেন। তবে ময়দার কোনো খাবার, শুকনো ফল, কফি, চকোলেট, ঠা-া পানীয় বেশি পরিমাণে খেলে থাইরয়েড বেড়ে যেতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত