হরমোন হলো আমাদের শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি। এটি দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে তৈরি হওয়া কিছু কেমিক্যাল, যেগুলো বিভিন্ন গ্ল্যান্ড থেকে তৈরি হয়ে রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। হরমোনের মাধ্যমে শরীরের সব ধরনের কার্যক্রম, গ্রোথ ডেভেলপমেন্ট হয় এবং শরীরের সবকিছুর সঙ্গেই হরমোনের সম্পর্কও বিভিন্নভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
হরমোনের প্রভাবে শরীরের নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এসব সমস্যা সাধারণত হরমোনের অতিরিক্ত উৎপাদন (হাইপারসেক্রিশন) বা কম উৎপাদনের ফলে হয়ে থাকে। নিচে হরমোনজনিত কিছু সাধারণ সমস্যা উল্লেখ করা হলো:
১. যখন থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরে পর্যাপ্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে না, এ অবস্থাকে চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়। এতে শরীরে ক্লান্তি, দুর্বলতা, অলসতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, শুষ্ক বা খসখসে ত্বক, ঠান্ডা সংবেদনশীলতা, পেশি দুর্বলতা ও গলগণ্ডের (বর্ধিত থাইরয়েড গ্রন্থি) মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
এছাড়া শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি থাইরয়েড হরমোন তৈরি করাকে চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় হাইপারথাইরয়েডিজম বলে থাকে। এতে কোন ওজন হ্রাস, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, অস্বাভাবিক ক্ষুধা, উদ্বেগ, বিরক্তি, কাঁপুনি, অস্বাভাবিক ঘাম, ঘন ঘন মল চলে যাওয়া, বর্ধিত থাইরয়েড গ্রন্থি (গলগণ্ড), অবসাদ, ঘুমের সমস্যা বা অস্থিরতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।
২. ইনসুলিন হরমোনের সমস্যার কারণে ডায়াবেটিস রোগীর মেলিটাস ও কার্যকারিতার অভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। আবার হাইপোগ্লাইসেমিয়া ইনসুলিনের অতিরিক্ত কার্যকারিতায় রক্তে শর্করার মাত্রা খুব কমে যায়।
৩. এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের সমস্যা (নারীদের ক্ষেত্রে) পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে অনিয়মিত মাসিক চক্র, মুখে ব্রণ, ওজন বৃদ্ধি ইত্যাদির সমস্যা হয়ে থাকে। মেনোপজ সংক্রান্ত সমস্যা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে গরম লাগা, মেজাজ পরিবর্তন, এবং ঘুমের সমস্যা হয়ে থাকে।
৪. হরমোনের সমস্যা (পুরুষদের ক্ষেত্রে) কম টেস্টোস্টেরন থেকে ক্লান্তি, লিবিডো হ্রাস, এবং পেশি দুর্বলতা অনুভব হয়। অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন থেকে আচরণগত সমস্যা এবং মুখে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়।
৫.কুশিং সিনড্রোম কর্টিসলের অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলে ওজন বৃদ্ধি, মুখ গোল হওয়া, এবং উচ্চ রক্তচাপের মাএা বেড়ে যাওয়া। অ্যাডিসন ডিজিজ এর কারনে কর্টিসলের অভাবে ক্লান্তি, ওজন কমা, এবং রক্তচাপ কমে যায়।
৬. জাইগান্টিজম বা অ্যাক্রোমেগালিও অতিরিক্ত গ্রোথ হরমোনের কারণে অস্বাভাবিক উচ্চতা বা হাত-পায়ের আকার বৃদ্ধি। ডোয়ারফিজম গ্রোথ হরমোনের অভাবে শরীরের বৃদ্ধি সীমিত হয়ে থাকে।
৭. প্রোল্যাকটিন হরমোনের সমস্যার ফলে বন্ধ্যত্ব, স্তন থেকে দুধ নির্গমন, এবং মাসিক চক্রের অনিয়ম।
৮. অক্সিটোসিন এবং অন্যান্য হরমোনের সমস্যা ঘাটতিতে প্রসব ও স্তন্যপানে সমস্যাযুক্ত হতে পারে।
হরমোনজনিত সমস্যাগুলো সাধারণত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয় এবং চিকিৎসার জন্য ওষুধ বা হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি ব্যবহার করা হয়। যদি কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শরীর ফিট রাখতে ঘুম থেকে উঠে যা করবেন
নির্বাচনে কারা আসবে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি: বদিউল আলম