মিয়ানমারের ৫ রিকটার স্কেলের ভূমিকম্পে কাঁপল ৪৮২ কিলোমিটার দূরের ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৫৯ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট হওয়া ভূমিকম্পের কারণে এত দূর পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৩২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূ-কম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ৫ রিকটার স্কেলের এই ভূমিকম্পটি ঢাকার আগারগাঁও থেকে ৪৮২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মিয়ানমারে উৎপত্তি হয়েছে। এদিকে এত দূরে উৎপত্তি হওয়ার পরও এর কম্পন আমরা কেন এত বেশি অনুভব করলাম?
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদি আনসারী দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘ভূমিকম্পটি যে এলাকায় উৎপত্তি লাভ করেছে সেই এলাকাটি স্বাভাবিকভাবেই ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। এখানে প্রতি সপ্তাহে ভূমিকম্প হয়। গত এক সপ্তাহে ৫ রিকটার স্কেলের মধ্যে চারটির বেশি ভূমিকম্প হয়েছে। একবছরে হয়েছে ৪০টি।’
তাহলে সেগুলো আমরা অনুভব করিনি কেন? জবাবে ড. মেহেদী আনসারী বলেন, ‘সেসব ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার গভীরে। কম গভীরতায় হওয়ায় অনেক দূর পর্যন্ত কম্পন প্রসারিত হয়নি। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল যত গভীরে হবে তা তত শক্তিশালী হবে এবং অনেক দূর পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হবে।
ড. মেহেদী আনসারী আরো বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের পাশ দিয়ে একটি ফল্ট লাইন রয়েছে। এই ফল্ট লাইনে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে। এখন তা কবে হয় তাই এখন দেখার বিষয়।
শুক্রবারের ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে মিয়ানমারের সেগিং ফল্ট এলাকায়। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা, আন্দামান নিকোবর হয়ে আসা প্লেট বাউন্ডারিটি এই সেগিং ফল্ট এলাকা হয়ে ভারতের পূর্ব ও উত্তর দিক হয়ে নেপাল পর্যন্ত বিস্তৃত। এখন এই সেগিং ফল্ট এলাকায় গত ২০০ বছরে শক্তিশালী (৭ মাত্রার উপরে) ভূমিকম্প হওয়ার রেকর্ড নেই।
তবে ১৭৬২ সালে সেন্টমার্টিনের পাশে ৮ দশমিক ৫ রিকটার স্কেলের ভূমিকম্পে সুনামি হয়েছিল এবং ১৮৫৮ সালে সেগিং ফল্টের পাশে ৮ রিকটার স্কেলের ভূমিকম্প হয়েছিল। যেহেতু ১৫০ থেকে ২০০ বছরের মধ্যে বড় আকারের ভূমিকম্প হওয়ার নজির রয়েছে, তাই এই অঞ্চলে আগামীতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে বলে ধারণা করছেন ভূমিকম্পবিদরা।
উল্লেখ্য, সারবিশ্বে প্রতিবছর দুই হাজার বার ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে বছরে ১০০ ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়ে থাকে। ছোট-বড় ২৭টি প্লেট নিয়ে গঠিত পৃথিবী প্রতিনিয়ত গতিতে থাকার কারণে প্লেটগুলোর প্রান্তসীমায় ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়ে থাকে। ইন্ডিয়া ও বার্মা প্লেটের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণেই টেকনাফ থেকে হিমালয়ান পর্বতমালা পর্যন্ত গঠিত হয়েছিল হিমালয় পর্বতমালা।
ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল
পাকিস্তানের পলিটিক্যাল অক্সিলারি ফোর্স হচ্ছে জামায়াত: সেলিম