নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৯তম আসর শুরুর দিন থেকেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত। গতকাল শনিবার ছুটির দিন তুলনামূলক দশনার্থী ছিল বেশি। মেলার আসা বেশিরভাগ দর্শনার্থী বলছেন, তারা শেষের দিকে অতিরিক্ত ছাড়ের আশায় পণ্য কিনছেন না। এখন মূলত ঘুরে ঘুরে দেখছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেলার ঢাকা থেকে দূরে হওয়ায় পণ্য বহনে ভোগান্তির কথা চিন্তা করে অনেকেই মালামাল কিনছেন না। এত দর্শনার্থী থাকার পরও যদি বিক্রি ভালো না হয় তাহলে আমাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, বিগত সময়ে ম্যানুয়াল টিকিটের কারণে ভোগান্তি হলেও এবার মেলায় ই-টিকেটিংয়ের ব্যবস্থা থাকায় দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যেই মেলায় প্রবেশ করতে পেরেছেন। মেলায় বিভিন্ন দেশি, বিদেশি ব্র্যান্ডের গৃহস্থালি সামগ্রী, প্রসাধনী, কাপড়, জুতা, খাবারের দোকান, ইলেকট্রনিক্স, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘরে দেখছেন। তবে কেনাকাটার সংখ্যা কম।
মেলায় শিশুদের জন্য করা শিশু পার্কে ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া মেলার ভেতরে পণ্যের মূল্য কয়েকগুণ বেশি ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি হচ্ছে। যে পণ্য বাইরে ৫শ টাকায় পাওয়া যায় সেই পণ্য মেলার ভেতরে ১২শ থেকে ১৫শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে দর্শনার্থীরা মেলায় ঘোরাফেরা করেই বাড়িতে চলে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেলায় চতুর্থ দিন ছুটির দিন হওয়ায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশ ভালো ছিল। মেলার শুরুর দিকে প্রত্যাশার চেয়ে তিনগুণ দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। এবার ইপিবি আগে থেকে স্টল বরাদ্দ দেওয়ায় সিংহভাগ দোকান আগেভাগেই নির্মাণকাজ শেষ করে ফেলেছে। তবে এত দর্শনার্থী থাকার পরও তাদের বেচাবিক্রি তেমন ভালো হচ্ছে না। বেচাবিক্রি কম হাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে তারা মনে করছেন তীব্র শীত ও মালামাল নেওয়ার পরিবহন ঝামেলা।
পণ্যের গায়ে মূল্য বাড়িয়ে ট্যাগ লাগানো ব্যাপারে তারা বলেন, আমরা এত এত টাকা দিয়ে মেলার ভেতরে দোকান বরাদ্দ নিয়েছি। যদি কিছু টাকা বাড়িয়ে পণ্য বিক্রি না করি তাহলে আমাদের অনেক লোকসান হবে।
মাসুম নামে এক জুতা ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মেলায় অনেক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। যেটি অত্যন্ত ভালো দিক। কিন্তু দর্শনার্থী থাকলেও বিক্রি হচ্ছে না তেমন একটা। বিক্রি কয়েকদিন পর থেকে বাড়বে বলে আশা করছি। একটি ফার্নিচার কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ বলেন, দর্শনার্থীরা স্টলে প্রবেশ করে ফার্নিচার দেখে ঘোরাফেরা করে চলে যান। মেলায় মানুষ কেনার চেয়ে বেশি দেখতে আসেন।
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ বাপ্পী চৌধুরী বলেন, অন্যবারের চেয়ে পূর্বাচলের মেলার অনেক বেশি গুছানো হয়েছে। আমাদের কোম্পানি এখানে মূলত বিক্রির চেয়ে বেশি নিজেদের পণ্য ব্র্যান্ডকে গুরুত্ব দিতে মেলায় অংশগ্রহণ করে। মেলায় এবার শুরু থেকেই দর্শনার্থীরা আসছেন এটা অত্যন্ত ভালো দিক। মেলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের সব পণ্যে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর থেকে আসা ফাহিম বাদশা নামে এক দর্শনার্থী বলেন, চতুর্থবারের মতো পূর্বাচলে মেলার আসর বসেছে। আমি এবারই প্রথম মেলায় ঘুরতে এসেছি। তবে বাসার জন্য কিছু ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য কেনার ইচ্ছা ছিল। এখান থেকে মালামাল নিয়ে যেতে ঝামেলার কথা চিন্তা করে আর নিচ্ছি না। মালামাল নেওয়ার জন্য পিকআপ, ট্রাক পাওয়া যাবে না এখানে। তাই শুধু ঝামেলা বাড়াচ্ছি না।
খিলক্ষেত এলাকায় থেকে আসা নাজমা আক্তার বলেন, তিনি ও তার স্বামী ঘুরতে এসেছেন। মেলায় কী কী পণ্য সামগ্রী উঠেছে তা তিনি দেখতে এসেছেন। কয়েকদিন পর এসে কিনে নিয়ে যাবেন।
মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের হেড অব অপারেশন আমিনুল ইসলাম বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে গত শুক্রবার ২৭ হাজার দর্শনার্থী ও শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২২ হাজার দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করেন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক বিবেক সরকার বলেন, মেলা এবার শুরু থেকেই জমে উঠেছে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে মেলায় দর্শনার্থীরা আসছেন। কোনো দর্শনার্থীরা অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সোচ্চার রয়েছেন।
