হাজী মুহসীন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:১৪ এএম

‘চতুর্থ হাজী মুহম্মদ মুহসীন স্মারক আন্তঃক্লাব জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৪’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাবি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ডিবেটিং ক্লাব আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২টি বিতর্ক ক্লাব অংশ নেয়।

চূড়ান্ত বিতর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলকে (সরকারি দল) ৬-৩ ব্যালটে হারায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা ডিবেটিং ক্লাব (বিরোধী দল)। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হন বিরোধী দলের উপনেতা উম্মে সুহালা। বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ, জুলাই বিপ্লবীদের বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে পতিত ক্ষমতাসীন দল ও তার দোসরদের প্রতি উদার মানসিকতাকে সমর্থন করে।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দেশ রূপান্তরের প্রকাশক ও রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল।

মুহসীন হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ছাদিক হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ ছাড়া হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান, হল বিতর্ক ক্লাবের মডারেটর আইনুল ইসলাম, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি অর্পিতা গোলদার এবং সাধারণ সম্পাদক আদনান মুস্তারি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষা, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন, শৃঙ্খলাবোধ ও মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্রে বিতর্কচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। বিতর্কচর্চার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সত্য উদঘাটনসহ নানা প্রাসঙ্গিক বিষয় উঠে আসে। বিতর্ক মানেই জনমত সৃষ্টি করা। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে যে সংস্কার কমিশন গঠন করেছি, ১৫ তারিখের (জানুয়ারি) মধ্যে সেই রিপোর্ট আসবে। রিপোর্টগুলো নিয়েও আমরা বিতর্ক করব। এই বিতর্কের উদ্দেশ্য হবে যেন সবার মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি করতে পারি এবং জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে পারি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল বলেন, ‘করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিতর্কের মতো একটি নান্দনিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত। আশা করি, অন্যান্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে আসবে। আগামীতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এ ধরনের বিতর্কের মাধ্যমে যুক্তিশীল ও স্মার্ট জনবল তৈরি করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতা বিতার্কিক, সমাজ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে নতুন চিন্তার খোরাক দেবে। আমরা আগামীতেও এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকব।’

প্রধান আলোচক ঢাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সহপাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে বিতর্কের গুরুত্ব অপরিসীম এবং এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বিতর্কের মাধ্যমেই মানবিক মানুষ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

এ আয়োজনের সার্বিক সহায়তায় স্পনসর হিসেবে ছিল রূপায়ণ সিটি ও স্ন্যাকস পার্টনার ম্যাগি মাসালা ব্লাস্ট। মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক দেশ রূপান্তর ও এশিয়ান টিভি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত