রহমতগঞ্জের কাছে প্রথম ম্যাচে হেরেই হয়েছে যত বিপত্তি। নইলে আজ নির্ভার হয়ে মাঠে নামত মোহামেডান। ফেডারেশন কাপের ‘বি’ গ্রুপে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে আজ তাদের প্রতিপক্ষ চিরবৈরী আবাহনী লিমিটেড; কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে যাদের লিগ ম্যাচে হারের স্বাদ দিয়েছিল সাদা-কালোরা। আজ যদি সেই হারের বদলা নেয় আকাশি-হলুদের দল, তবে মোহামেডানের জন্য পরের ধাপ অর্থাৎ কোয়ালিফায়ার্সে খেলা বলতে গেলে অসম্ভব।
মোহামেডান ফেডারেশন কাপে এখন পর্যন্ত খেলেছে দুই ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে তারা রহমতগঞ্জের কাছে হারে ১-০ গোলে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীকে উড়িয়ে দেয় ৬-০ ব্যবধানে। অন্যদিকে আবাহনী খেলেছে একটাই ম্যাচ। চট্টগ্রাম আবাহনীকে ধানম-ি জায়ান্টরা হারিয়েছিল ৩-০ ব্যবধানে। টানা দুই জয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপের শীর্ষে আছে রহমতগঞ্জ। তাই আজ দুই দলেরই আছে রহমতগঞ্জকে ছুঁয়ে ফেলার সুযোগ।
মোহামেডানের জন্য জয়ের বিকল্প নেই আজ। লিগে দুর্বার গতিতে ছুটে চলা দলটির দিকেই অবশ্য জয়ের পাল্লা ভারী। লিগে তারা টানা ছয় ম্যাচ জিতে আছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। ১৪ ডিসেম্বর এই মাঠেই তারা আবাহনীকে হারিয়েছিল অধিনায়ক সুলেমান দিয়াবাতের একমাত্র গোলে। চোটের কারণে দুই ম্যাচ বিশ্রামে থাকার পর মালির ফরোয়ার্ড দিয়াবাতের আজ মাঠের ফেরার সম্ভাবনা আছে। অর্থাৎ পূর্ণ শক্তি নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটা খেলবে আলফাজ আহমেদের শিষ্যরা। তিন দিন আগে লিগের ম্যাচে ১০ জনের দল নিয়েই চট্টগ্রাম আবাহনীকে বড় ব্যবধানে হারানোর আত্মবিশ^াস সঙ্গী হয়েছে তাদের। দিয়াবাতের অনুপস্থিতিতে খেলার সুযোগ পেয়ে জোড়া গোলে নিজেকে চিনিয়েছেন তরুণ স্ট্রাইকার সৌরভ দেওয়ান। এ ছাড়া মোজাফফরভ, ইমান্যুয়েল সানডে, আর্নেস্ট বোয়েটাং ও আরিফ হোসেনের রসায়নটা দারুণ জমেছে দলটির আক্রমণভাগে। সব মিলিয়ে শতভাগ স্থানীয়দের নিয়ে গড়া আবাহনীর জন্য আরেকটি কঠিন দিন উপস্থিত হতে যাচ্ছে।
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ঘটনায় নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়া আবাহনী এবার কোনো বিদেশি দলে নেয়নি। তবে স্থানীয় সংগ্রহে তারা দেখিয়েছে মুনশিয়ানা। সুযোগ পেয়ে আবাহনীর লোকালরাও সেরাটা দিচ্ছেন নিজেদের প্রমাণে। তাছাড়া ডাগআউটে আছেন মারুফুল হকের মতো পরীক্ষিত কোচ, যার অধীনে বিদেশি ছাড়াও আবাহনী আছে লিগ টেবিলের তিনে। যদিও লিগের শেষ ম্যাচে তারা গোলশূন্য ড্র করেছে ফর্টিস এফসির সঙ্গে। আজ জিতলে আবাহনী কোয়ালিফায়ার্সে খেলার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে। আর যদি ১৪ ডিসেম্বরের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে তাদের জন্য পরের দুই ম্যাচ হবে ডু অর ডাই।
কুমিল্লার আজকের পর খেলায় পড়বে বড় ছেদ। একটি স্থানীয় কলেজের পুনর্মিলণী অনুষ্ঠানের জন্য এই মাঠ বরাদ্দ দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তাই বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে লিগের সপ্তম রাউন্ডের দুটি ম্যাচ সরিয়ে নিতে হয়েছে এখান থেকে।
