‘যুদ্ধে নামলে গুলি খাইতে হয়’

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:৫৯ এএম

তীব্র আগ্রাসন, উদযাপনে তুফান, কিংবা মাঠে দাপুটে শরীরী ভাষা। পেসারদের নিয়ে এই প্রচলিত ভাবনাকে যেন ভুল প্রমাণ করতেই এসেছেন নাহিদ রানা। মাঠে তার গতি ও বাউন্সে কাবু হয় প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা, তবে উদযাপন কিংবা আচরণে তিনি একেবারেই ব্যতিক্রম। মাঠের বাইরে আরও নম্র, সংযত এবং পরিমিত। তার বল হাতে দৌড় শুরু করার আগ পর্যন্ত কেউ বুঝতেই পারবে না, এই তরুণই এখন দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা এবং বিপিএলে চলতি আসরের আলোচিত নাম। 

সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে মিরপুরে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া থেকে শুরু, এবার সিলেটের লাক্কাতুরায় ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে সিলেটে ৩ উইকেট শিকার করে আবার ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে তুলেছেন নাহিদ। ৯ উইকেট নিয়ে বিপিএলের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। আর ১২ উইকেট নিয়ে তাসকিন আহমেদ সবার শীর্ষে। তবে নাহিদের বোলিং গতি এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা এখন ক্রিকেটবিশ্বেও। 

গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকেই দেড়শ কিলোমিটার গতিতে বল করে নজর কাড়েন নাহিদ। সেই গতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন বিপিএলেও। এবারের বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলছেন এই ২২ বছর বয়সী পেসার। তার বোলিংয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান নজরকাড়া। 

সব মিলিয়ে এখন তিনি দেশের ক্রিকেটের ঝলমলে এক নক্ষত্র। তবে ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে বললেন, নিজেকে তিনি মাটির মানুষই মনে করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নিজেকে আমি কোনো তারকা মনে করি না। আমি আপনাদের মতো সাধারণ মানুষ। তাই সাধারণ থাকারই চেষ্টা করছি। আসলে এই জিনিসগুলো থেকে আমি যত পারি, দূরে থাকার চেষ্টা করি। মানুষ মানুষের প্রশংসা করলে শুনতে ভালো লাগে অবশ্যই। তবে আমি চেষ্টা করি, যত পারি এগুলো থেকে দূরে থাকার। কারণ, নিজের ভেতরে যত সন্তুষ্টি কম আসবে, তত আমি সামনে এগোব ও আমার ভেতরে ক্ষুধাটা থাকবে পারফর্ম করার। তাই চেষ্টা করি এগুলো থেকে দূরে থাকার।’

টানা ম্যাচ খেলার চাপ সামাল দিতে বিসিবির দেওয়া নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলছেন নাহিদ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফিটনেস ও ইনজুরি নিয়ে বললেন, ‘প্রথমে যেটা বললেন যে, ইনজুরি। ধরেন, মানুষ যুদ্ধে নামলে গুলি খাইতে হয়। ক্রিকেট খেলতে আসলে ইনজুরিতে পড়ব। আর যেটা মেইনটেইনের কথা বলছিলেন, ফিটনেস, এগুলো সব নিজে মেইনটেইন করছি। আর বিসিবি যেসব শিডিউল দিয়েছে, ওগুলো মেনে কাজ করার চেষ্টা করছি। সামনে যা হবে আলহামদুলিল্লাহ।’

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে প্রায় নিয়মিতই নাহিদ। গতি তারকার তকমায় এবার বিপিএলেও তাকে নিয়ে রয়েছে তুমুল আগ্রহ। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে হয় টানা ম্যাচে। নাহিদও গত সপ্তাহে খেলেছেন পাঁচটি ম্যাচ। এই ঠাসা সূচির চাপ নিয়ন্ত্রণে বিসিবির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন নাহিদ, ‘আমাদের জাতীয় দলের বায়েজীদ ভাই ফিজিও আছেন; উনার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। আমাদের রংপুর দলে সজীব ভাই আছেন, উনার সঙ্গে কথা হয়। তো জাতীয় দলের ফিজিওর সঙ্গে অবশ্যই কথা হয়।’

উঠে আসে মাশরাফীর প্রসঙ্গও। নাহিদের উত্তর, ‘দেখেন, আমি শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছি ওয়েস্ট ইন্ডিজে। তো তারপরে বিরতি পেয়েছি, খেলিনি। বিসিবির একটা ছিল যে, তোমাকে মেইনটেইন করব এবং পরিকল্পনা দিয়েছে যে তুমি এভাবে ফিটনেস মেইনটেইন করবে এবং ম্যাচ খেলবে। এখন পর্যন্ত বিসিবি বলছে যে আমার বোলিং ঠিক আছে এবং ফিল করছি যে শরীর ঠিক আছে। এমনভাবে কিছু আসেনি বিসিবি থেকে।’

বিপিএলের চলমান আসরে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলে দেওয়া নাহিদ রানা নিজের বোলিং আর ফিটনেসে যত্নশীল। গতি আর ধারাবাহিকতার এই সমন্বয় যদি বজায় থাকে, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ পাবে আরও এক অভিজাত গতির সেনসেশন। তবে তার সহজ-সরল স্বভাব আর মাটির কাছাকাছি থাকা মনোভাবই হয়তো তাকে আলাদা করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত