সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বেশিরভাগই রাজনৈতিক

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

সংখ্যালঘুদের ওপর গত ৪ আগস্ট থেকে যেসব হামলা হয়েছে তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না, বরং তা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পাশাপাশি কিছু হামলার দাবি মিথ্যা বলেও প্রমাণিত হয়েছে পুলিশের এক প্রতিবেদনে। গতকাল প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

গতকাল শনিবার প্রতিবেদনটির বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, অন্তর্র্বর্তী সরকার ধর্ম-বর্ণ, জাতি-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশে যে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে অন্তর্র্বর্তী সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

সাম্প্রদায়িক হিংসার অভিযোগ পেতে পুলিশ একটি হোয়াটসঅ্যাপ খুলেছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জাতীয় জরুরি পরিষেবা যখনই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিষয়ে ৯৯৯ হেল্পলাইন নম্বরে জানানো হয়, ঠিক তখনই একটি কাছাকাছি বাহিনীকে সংযুক্ত করে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশ সব ধরেনের অভিযোগের সমাধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দাবি করেছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ১ হাজার ৭৬৯টি সাম্প্রদায়িক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাগুলোর মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন, সম্পত্তি ও উপাসনালয়ে ২ হাজার ১০টি ঘটনা রয়েছে।

অভিযোগের তালিকা নিয়ে সহিংসতার শিকার বলে দাবি করা ব্যক্তি এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। ঐক্য পরিষদের তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেকটি স্থান, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির কাছে গিয়ে পুলিশ তদন্ত করেছে।

পুলিশের ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীদের পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার অনুরোধ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে সাধারণ ডায়েরি, নিয়মিত মামলা এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে সাম্প্রদায়িক হামলা ও দাবির বিষয়ে পুলিশের প্রতিবেদন অনুসারে, ১ হাজার ৭৬৯টি অভিযোগের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬২টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে অন্তত ৩৫ জন অপরাধীকে  গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হামলাগুলো সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না, বরং তা ছিল রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ১ হাজার ২৩৪টি ঘটনা রাজনৈতিক কারণে হয়েছে এবং ২০টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক। এছাড়া অন্তত ১৬১টি দাবি মিথ্যা বা অসত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ঐক্য পরিষদের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সময় ১ হাজার ৪৫২টি দাবির ৮২ দশমিক ৮ শতাংশ ঘটনা ঘটে। কাউন্সিলের কাছ থেকে পাওয়া অনুলিপিতে পুলিশ দেখেছে যে, ৪ আগস্ট ৬৫টি এবং ৬ আগস্ট ৭০টি ঘটনা ঘটেছে।

তাদের দাবি ছাড়াও ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ১৩৪টি অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। পুলিশ এই সমস্ত অভিযোগকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

এসব অভিযোগে অন্তত ৫৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৬৫ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক হামলার অভিযোগে ১১৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত