দিক বদলেছে হাওয়া আরও ক্ষতির শঙ্কা

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস গ্রাস করা দাবানলের বেগ যেন থামানোই যাচ্ছে না; ‘আগুনের ঝড়’ নতুন করে এখন দিক পরিবর্তন করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, গত শনিবার দাবানলের দিক পরিবর্তনের কারণে আরও মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, আগুন নেভাতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ঘিরে ধরা ছয়টি দাবানলে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১৩ জন। ১২ হাজার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ধ্বংস হওয়া বাড়িঘর বা স্থাপনাগুলোয় অনুসন্ধান চালালে প্রাণহানির সংখ্যাও বাড়তে পারে।

রয়টার্স জানাচ্ছে, হাওয়ার দিক বদলের কারণে দাবানলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি নগরীর সবচেয়ে অভিজাত এলাকাগুলোর মধ্যে একটিতে ছড়িয়ে পড়ার মুখে আছে। এ হুমকি ঠেকাতে দমকলকর্মীরা সর্বাত্মক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, নগরীর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের প্যালিসেইডস আগুন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও এক হাজার একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, এতে আরও বহু ঘরবাড়ি দাবানলের গ্রাসে চলে গেছে। দাবানলটি এখন লস অ্যাঞ্জেলেসের পশ্চিমাংশের অভিজাত ব্রেন্টউড এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার হুমকি তৈরি করেছে।

আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দমকলকর্মীরা আকাশযান থেকে জ¦লতে থাকা পাহাড়গুলোয় পানি ও আগুননিরোধক ছিটাচ্ছেন।

গত মঙ্গলবার থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আশপাশের এলাকা জুড়ে একযোগে ছয়টি দাবানল শুরু হয়ে ছড়িয়ে পড়া শুরু করে। এতে শনিবার পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট ও অন্য গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তার দপ্তর জানায়, যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ১১ জন ইটনের আগুনে এবং বাকি পাঁচজন প্যালিসেইডসের আগুনে মারা গেছেন।

দমকল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছয়টি দাবানলে এ পর্যন্ত ১২ হাজার বাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা ধ্বংস হয়ে গেছে। অন্তত ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

দমকলকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি শুরু করতে পারলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্যালিফোর্নিয়া দমকলের কর্মকর্তা টড হপকিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্যালিসেইডসের আগুন ১১ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও এটি ২২ হাজার একরেরও বেশি এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে।

হপকিন্স জানান, প্যালিসেইডসের আগুন ম্যান্ড্যাভেইল ক্যানিয়ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রেন্টউড এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার হুমকি তৈরি করেছে। এটি ইঞ্চি ইঞ্চি করে উত্তর-দক্ষিণ ৪০৫ মহাসড়কের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিজাত এলাকা ব্রেন্টউডে অনেক ধনী মানুষ বাস করেন। দাবানল এগিয়ে আসায় ব্রেন্টউডের বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই এলাকার মধ্যে পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত জাদুঘর গেটি সেন্টারও পড়েছে। এই জাদুঘরে ১ লাখ ২৫ হাজার শিল্পকর্ম রয়েছে। এসব শিল্পকর্মের মধ্যে ভ্যান গগ, রেমব্রা, রুবেন্স, মনে ও দেগার মতো বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পীর কাজ রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত গেটি সেন্টারের ভবনটি অক্ষত রয়েছে।

দ্বিতীয় বড় দাবানল ইটন আগুনে ১৪ হাজারের বেশি এলাকা পুড়ে ছাই হয়েছে। দমকলকর্মীরা এই আগুনের ১৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। আর কেনেথ ও হার্স্ট নামের ছোট দুটি দাবানল তারা প্রায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছেন।

এসব দাবানল কীভাবে শুরু হয়েছে, তার কোনো কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। বড় দুটি দাবানল এ পর্যন্ত ম্যানহাটনের দ্বিগুণ পরিমাণ এলাকা গ্রাস করেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার বাসিন্দাকে বাধ্যতামূলক এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আরও ১ লাখ ৬৬ হাজারকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাদেরও এলাকা ছাড়তে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা সতর্ক করে বলেছে, শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ঝড়োবাতাস সান্তা আনা লস অ্যাঞ্জেলেসের ওপর দিয়ে জোরালোভাবে বইতে পারে, তারপর সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আবার বইতে পারে। এ সময় একটানা বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার হতে পারে, যা দমকা হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ৭০ মাইল বেগে বয়ে যেতে পারে।

প্রচণ্ড শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যে এমন জোরালো বাতাস বইতে থাকলে দাবানল পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সাতটি প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডা ও মেক্সিকো এসব দাবানল মোকাবিলার জন্য উপকরণসহ সরঞ্জাম এবং দমকলকর্মী পাঠিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত