কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এক যুবদল নেতার নেতৃত্বে দুই তরুণীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে রাতভর আটক রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের সেবাখোলা নামক স্থানে খোকনের করাতকলে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী তরুণীদের। ওই ঘটনায় গত রবিবার তারা নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনা কাউকে না জানাতে ধর্ষণের ভিডিও করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় তাদের।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি এ কে ফজলুল হক জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. মহসিন, করাতকলের মালিক খোকন মিয়া ও চা দোকানদার কবির আহম্মদ। বাকিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ভুক্তভোগী দুই তরুণী বলেন, ‘আমাদের দুই বোনকে ১০-১২ জন মিলে একটি স’ মিলে সংবদ্ধ ধর্ষণ করেছে। এর মধ্যে দুজন আমাদের সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করেছে। সবার মুখ দেখলেই চিনতে পারব আমি। স’ মিলের মালিক ছিল। তারা বলেন, আমাদের প্রথমে অটোরিকশায় বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরাঘুরি করে। আমরা বুঝতে পারি, তাদের উদ্দেশ্য ভালো না, তখন আমাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। কেউ ছিল না আশপাশে তখন। পরে আমাদের একটি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে আমাদের ধর্ষণ করে। পরে মারধর করে জোর করে ভিডিও করে।’
গত রবিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছে না। করাতকলের মালিক খোকন মিয়া ঘটনার পর পর পলাতক। প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. মহসিনও এলাকায় নেই।
খোকন মিয়া মোবাইল ফোনে বলেন, জোরপূর্বকভাবে আমার স’ মিলে দুই মেয়ে নিয়ে ঢুকেন যুবদল নেতা মহসিন। এ সময় তার সঙ্গে আরও ১০-১২ জন ছিল।
এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা মহসিনের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি জানান, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। তবে মহসিনের বাবা রঞ্জু মিয়া বলেন, আমার ছেলে বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর আগেও এলাকায় বিভিন্ন অপপ্রচার হয়। এ ছাড়া আমার ছেলে নির্দোষ।
নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেনি। তবে কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার এসব অপকর্ম করে, আমরা তার দায়ভার নেব না। অপরাধীকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হোক।
ওসি এ কে ফজলুল হক বলেন, দুই তরুণী পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আমরা তাদের কাছে ঘটনা জানতে চাচ্ছি। বিস্তারিত পরে বলব।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমিন সরকার বলেন, ওসিকে বলা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
