জনপ্রশাসনবিষয়ক নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ-হতাশা

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:০৪ এএম

প্রশাসনে পদায়ন ও বদলিতে জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জনপ্রশাসনে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ যুগ্মসচিব এবং তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার নিয়োগ বদলি, শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ প্রদানে নতুন এ কমিটি কাজ করবে। এখন এই কমিটি নিয়ে সিভিল প্রশাসনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ক্ষোভ-হতাশা দেখা দিয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে।

প্রশাসনের বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন এ কমিটি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভেতরে হতাশা সৃষ্টি করবে। যেসব কর্মপরিধির কথা তুলে ‘জনপ্রশাসনবিষয়ক’ নতুন কমিটি গঠন করার কাজ চলমান রয়েছে, তা কর্মচাঞ্চল্য নষ্ট করবে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, একই উদ্দেশ্য, লক্ষ ও কর্মপরিধি নির্ধারণ করে ৫৩ বছর ধরে কাজ করে আসছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি), তাহলে নতুন করে একই কাজে ‘জনপ্রশাসনবিষয়ক’ কমিটি গঠনের মূল উদ্দেশ্য কী হতে পারে?

সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) মূল কাজ উপসচিব তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুপারিশ করা। এই পদোন্নতির সুপারিশ করতে গিয়ে পদায়নের সুযোগ আছে কি না তা বিবেচনা করে থাকে। এই বোর্ড কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন, বিভাগীয় মামলা আছে কি না, তা দেখে। সব বিবেচনা করে পদোন্নতির সুপারিশ করে থাকে।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটির সঙ্গে এসএসবির কনফ্লিক্ট নেই। এসএসবি আগে যেসব কাজ করত, এখনো একই কাজ করবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন বিভাগের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বলা হচ্ছে এসএসবির সঙ্গে জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটির কনফ্লিক্ট নেই। কিন্তু নতুন এ কমিটির মধ্য দিয়ে এসএসবি অকার্যকর হয়ে উঠবে। প্রশাসনও ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

গত ৮ জানুয়ারি এ-সংক্রান্ত একটি গেজেট দেশ রূপান্তর হাতে পেয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে অবহিত করা হয়েছে গেজেটে। জনপ্রশাসনবিষয়ক নতুন এ কমিটির গেজেটে দেখা গেছে, সভাপতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সদস্য সচিব তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। ছয় সদস্যের এ কমিটির অন্য সদস্যরা জ¦ালানি উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সদস্য হিসেবে আরও থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিব।

গেজেটে কমিটির কর্মপরিধিতে বলা হয়েছে, কমিটি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ যুগ্মসচিব তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি, নিয়োগ, শৃঙ্খলার বিষয়ে পরামর্শ দেবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে গেজেটে। কমিটি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে তথ্য চাইতে পারবে।

৫৩ বছর ধরে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তাদের চাকরির ইতিহাস বিবেচনা করে তাদের পদোন্নতি এবং বেতন স্কেলের সুপারিশ করে থাকে এসএসবি। বিভিন্ন সার্ভিস ক্যাডার, নন-ক্যাডার কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তাদের বেতনের গ্রেড নির্ধারণ করাও এই বোর্ডের কাজ। তবে ২০০২ সালের পদোন্নতি নীতিমালা অনুসারে উপসচিব বা তার চেয়ে ওপরের পদে পদায়নের ক্ষমতাও এই বোর্ডের ওপর ন্যস্ত হয়। এ ছাড়া ১৯৭২ সালে গঠিত এসএসবি নিয়োগসংক্রান্ত কিছু দায়িত্বও পালন করে থাকে। স্বশাসিত কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা প্রধান ও ব্যবস্থাপনা বোর্ডের পরিচালক এবং বিভিন্ন সরকারি বিভাগ ও অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রধানকে এই বোর্ডই নিয়োগ দিয়ে থাকে। এসব কর্মকর্তাকে টাইমস্কেল দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা এ বোর্ডের অন্যতম দায়িত্ব।

নাম প্রকাশ না করে তিন কর্মকর্তা একই সুরে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিভিল প্রশাসনকে আরও দুর্বল করে তুলবে এ কমিটি। এমনিতেই প্রশাসন ক্যাডারে থাকা কর্মকর্তাদের ভেতরে নানা ক্ষোভ-বিরাজ করে আসছিল। এই কমিটি সেই ক্ষোভকে আরও চাঙ্গা করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত