আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাতিসংঘের কাছে কারিগরি সহায়তা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ একটি পর্যালোচনা দল পাঠিয়েছে এবং তারা আগামী ১০ দিন দেশের রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, অ্যাকাডেমিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস।
গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি ও অন্য কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। এর আগে সকালে তারা ইসির সঙ্গে বৈঠক করে।
গোয়েন লুইস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেখা করতে এসেছি। নির্বাচন কমিশন আগামী নির্বাচনের জন্য জাতিসংঘের কাছে চিঠি লিখে কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। আনন্দের বিষয় এই নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে গঠিত হয়েছে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থন পাবে। আমরা এই কমিশনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ তাদের পর্যালোচনা দল পাঠিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কী প্রয়োজন, তা নিয়ে মঙ্গলবার সকালে আমরা তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি।’ নির্বাচন কমিশন একটি সহায়তার তালিকা দিয়েছে বলে তিনি জানান।
গোয়েন লুইস বলেন, ‘আমি পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চেয়েছি। আগামীকাল (আজ) আমাদের পর্যালোচনা দলটি চট্টগ্রামে যাবে। সামনের কয়েক দিন তারা সেখানকার স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করবে।’
তিনি জানান, জাসিংঘের পর্যালোচনা দলটি আগামী ১০ দিন সুশীল সমাজ, অ্যাকাডেমিয়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবে।
আবাসিক প্রতিনিধি আরও জানান, এটি একটি টেকনিক্যাল বিষয়। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কমিউনিকেশনস সহায়তা, ডিসইনফরমেশন প্রতিরোধ, তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার, ট্রান্সপোর্ট সহায়তাসহ অন্যান্য বিষয়ের কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘ এ ব্যাপারে কী করতে পারবে, তা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশকে জানাবে সফররত পর্যালোচনা দলটি।
কতগুলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতিসংঘ দল বৈঠক করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যতগুলো আমাদের পক্ষে সম্ভব।’ নির্বাচন কমিশন ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সেটির জন্যও সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
