বিশেষ আইনে করা সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের পর্যালোচনায় কমিটি

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৩৮ এএম

আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে দরপত্র ছাড়াই বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্রয়চুক্তির ট্যারিফ (বিদ্যুতের দাম) পর্যালোচনার জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অধ্যাপক মো. কামরুল আহসানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে সদস্য সচিব করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব (উন্নয়ন-১) মোহাম্মদ সোলায়মানকে। অন্য সদস্যরা হলেন বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার কমিটির আর্থিক মডেলিং বিশেষজ্ঞ ও পাওয়ারসেলের পরামর্শক তোহা মুহাম্মদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টেও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুর আলম, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (অর্থ) অব্ধনা খান মজলিশ এবং পরিচালক (ক্রয় পরিদপ্তর) মো. নান্নু মিয়া।

ওই কমিটি বিদ্যুৎ জ্বালানির বিশেষ বিধান বা ‘দায়মুক্তি আইনের’ আওতায় নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্রয়চুক্তিতে অসংগতি খুঁজে বের করে এ-সংক্রান্ত সুপারিশ করবে। পাশাপাশি বিশেষ আইনে করা ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চুক্তিগুলো নেগোসিয়েশন ও সুপারিশ করবে উচ্চপর্যায়ের ওই কমিটি।

বিদ্যুৎ বিভাগের অফিস আদেশে বলা হয়, কমিটিতে প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কোনো সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের আওতায় ৯১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়েছে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা ছাড়াই। এসব চুক্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আছে। বিগত সরকারের পছন্দের বিশেষ কিছু ব্যক্তিকে এসব কেন্দ্রের কাজ দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রগুলো থেকে যে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে, তাতে ব্যয় অনেক বেশি পড়ছে।

এ আইনের অধীনে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে যাওয়া যাবে না। এ কারণে এটি দায়মুক্তি আইন হিসেবে পরিচিতি পায়। দীর্ঘদিন ধরে এ আইন বাতিলের দাবি তোলা হলেও আওয়ামী লীগ সরকার তা আমলে নেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনটি বাতিল করা হয়। এখন কেন্দ্রগুলোর চুক্তি পর্যালোচনা করবে সরকার।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চুক্তি পর্যালোচনায় পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আছেন হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি ‘জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানের নিমিত্তে’ গঠিত তদন্ত কমিশনেরও নেতৃত্বে আছেন। পর্যালোচনা কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও সহ-উপাচার্য আব্দুল হাসিব চৌধুরী; কেপিএমজি বাংলাদেশের সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) আলী আশফাক, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ও ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ফ্যাকাল্টি অব ল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের অর্থনীতির অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান।

ওই কমিটি সামিট, ইউনাইটেড, আদানিসহ ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তিগুলো যথাযথভাবে হয়েছে কি না, চুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে কি না, জাতীয় স্বার্থ বিনষ্ট হয়েছে কি না, এসব বিষয় যাচাই করে দেখছে কমিটি। এসব চুক্তির বিষয়ে এখন কী করা যেতে পারে, তার আইনগত দিক পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত