‘লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার লিভার প্রতিস্থাপন হচ্ছে না’ এমনটা জানিয়ে তার এক ব্যক্তিগত চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘যথাসময়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন বিকল্প হিসেবে লিভারের ওপর যাতে চাপ না পড়ে সেজন্য তাকে হিউম্যান সিরাম অ্যালবুমিন দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা চিন্তা করে মেডিকেল বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
চিকিৎসক জানান, খালেদা জিয়ার শরীরে নতুন যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটা কেটেছে। বলা যায়, পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। তার শারীরিক এ অবস্থায় লিভার প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়। এটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, স্থাস্থ্যের অনেক দিক পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল থাকলেও অনেক জটিলতা রয়ে গেছে। বয়সও বড় ফ্যাক্টর।
চিকিৎসক আরও বলেন, ‘শারীরিক সক্ষমতা যখন ভালো ছিল, তখন বিদেশে নেওয়া গেলে একটা সুযোগ থাকত। অর্থাৎ এভারকেয়ার হাসপাতালে যখন চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন মেডিকেল বোর্ড বারবার তাগাদা দিয়েছিল উন্নত চিকিৎসায় বিদেশ পাঠাতে। সেটি সম্ভব হয়নি। এখন লিভার প্রতিস্থাপনের বিকল্প হিসেবে হিউম্যান সিরাম অ্যালবুমিন দেওয়া হবে। এটি মানুষের রক্তের প্লাজমায় সর্বাধিক প্রোটিন গঠন করে। এটি দেওয়ার পর লিভারের ওপর চাপ পড়বে না। মেডিকেল বোর্ড নতুন নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।’
এদিকে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে আমাদের যে পদ্ধতি; অর্থাৎ উনাকে তো এখন লিভার, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, প্রেশার, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস প্রতিটির জন্য ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চলছে। এর বাইরেও আরও যদি কোনো চিকিৎসা করা যায়, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস হসপিটালের মেডিকেল টিমের সদস্যরা এখানে মেডিকেল বোর্ডের সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, যাতে আমরা এটাকে এক ছাদের নিচে চিকিৎসা যেটা বলে, ওয়ান আমব্রেলার (ছাতা) নিচে; অর্থাৎ ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মতো, সেটা করার ব্যাপারে উনারা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা সর্বশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করেছেন। পরবর্তী সময়ে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরও কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দুয়েক দিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে দেখবেন। বর্তমানে যে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা পদ্ধতি চলছে, সেটার পাশাপাশি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার বয়স এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনা করে সবচেয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করবেন।’
খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান ও নাতনিরা নিয়মিত হাসপাতালে আসছেন। বাসা থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।
গত ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার লন্ডনের বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতাল দ্য ক্লিনিকের অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির নেতৃত্বে হার্ট, কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিস রোগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
৮ জানুয়ারি লন্ডনের দ্য ক্লিনিকে ভর্তির পর থেকে খালেদা জিয়া অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। ৮ জানুয়ারি বুধবার খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন আসেন। সেদিন লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তাকে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতাল ‘দ্য ক্লিনিক’-এ নিয়ে ভর্তি করা হয়।
