‘সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ৩, ৪, ৬ ও ৮-এ চারটি ধারা সংশোধনী চেয়ে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন আইন সচিবের উদ্দেশে গত বুধবার এ নোটিস পাঠান। নোটিস পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে উচ্চ আদালতের দারস্থ হবেন বলে জানান নোটিসদাতা আইনজীবী। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা, কাউন্সিলের সচিব, কাউন্সিলের ক্ষমতা ও কাজ এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগের সুপারিশ-সংক্রান্ত ধারাগুলো সংশোধন চাওয়া হয়েছে।’
নোটিসে বলা হয়েছে, ‘অধ্যাদেশের ৩ ধারা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের দুটি দলে বিভক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিচারকদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব দেখা দেবে। এ ছাড়া কাউন্সিলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। অধ্যাদেশের ৪ ধারায় সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলের সচিব হবেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল।
আবার বলা হয়েছে, তিনি (রেজিস্ট্রার জেনারেল) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক প্রার্থীও হতে পারবেন। এই বিধান স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করবে। নোটিসে বলা হয়, অধ্যাদেশের ৬ ধারা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ৪৫ ধরা হয়েছে, যা সংবিধানের পরিপন্থী এবং এর ফলে অনেক যোগ্য প্রার্থী বয়সসীমার কারণে বঞ্চিত হবেন। এ ছাড়া অধ্যাদেশের ৮ ধারায় উল্লিখিত বিধান বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণে এক ধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে। যেটা অবৈধ, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং সংবিধানের লঙ্ঘন।
বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বৈষম্যমূলক : মাহবুব উদ্দিন খোকন সদ্য জারিকৃত ‘সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫-কে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে এটি সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে একটি নীতিমালা করার জন্য দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। শেষ পর্যন্ত একটি আইন হয়েছে। সেজন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ। কিন্তু যে আইনটি হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক। আমি এর সংশোধন দাবি করছি।’
তিনি বলেন, ‘এই আইনে যে প্রতিনিধিদের (কাউন্সিলে) রাখা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক। কারণ হচ্ছে, নিম্ন আদালতের বিচারকদের থেকে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য কাউন্সিলে তাদের একজন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। কিন্তু বেশিসংখ্যক বিচারক নিয়োগ হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের থেকে। কিন্তু কাউন্সিলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এই বিষয়টি শুধু আমাকে না সব আইনজীবীকে হতাশ করেছে।’
সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি বলেন, ‘অধ্যাদেশটি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। খসড়া করেছে আইন মন্ত্রণালয়। আমলাদের প্রভাব যে এই আইনে (অধ্যাদেশে) ছিল, তা একেবারে স্পষ্ট।’
