আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা রয়েছে। বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো যারা গত ১৪-১৫ বছর রাজপথে আন্দোলন করেছে, তারা চলতি বছরেই নির্বাচন চাইছে। তারা ন্যূনতম সংস্কার শেষেই নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের দিক থেকে নির্বাচন নিয়ে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ উল্লেখ করা না হলেও এ বছরের শেষ দিকে বা আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ আসছে ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীতে এক মতবিনিময় সভায় ব্যালটে ভোট করার কথাও বলেছেন তিনি।
এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচন নিয়ে অনেকটা কাছাকাছি এসেছে বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদসহ অনেকে। এ বিষয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা শুভ লক্ষণ। সরকার ও কমিশন চাইলে নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরে নির্বাচন দিতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলো এতে আপত্তি করবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে দূরত্ব তৈরি হয় না। দূরত্ব তৈরি হলে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকে।’
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য তিন-চার মাসের বেশি সময় লাগার কথা নয়।’ তিনি বলেন, ‘যদি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্র্বর্তী সরকার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান, তাহলে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে আগামী ৫ আগস্টেই সংসদ নির্বাচন করতে পারে।’ তিনি সরকারের প্রতি এমন আহ্বান জানালেও বিএনপি চায় চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে শহীদ আসাদ পরিষদের উদ্যোগে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক শহীদ আসাদের ৫৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমি বলি যে, নির্বাচনটা দ্রুত হওয়া দরকার। আমরা বিশ্বাস করি, যে নির্বাচন থেকে আমরা ১৫ বছর বঞ্চিত সে নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের জনগণ তাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করার সুযোগ পাবে।’
তিনি বলেন, ‘জোর করে এ বিষয়টাকে যদি বিতর্কিত করে ফেলা হয় তাহলে জনগণ আবার এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে, এ ধরনের নির্বাচন যদি দ্রুত না হয়, যদি সময়ক্ষেপণ করা হয়, তাহলে অন্যান্য শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে। তখন জনগণ তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।’ বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, নির্বাচনে কে আসবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা লড়াই করেছি দীর্ঘ ১৫ বছর। আমি বলেছি যে, আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আছে, এ সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পরে জনগণের আকাক্সক্ষা অনেক বেড়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন পর্যন্ত সমাজের যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, সে অবস্থায় আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না যে, দেশের মানুষের আকাক্সক্ষা পূরণ হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের আলাদা প্রোগ্রাম আছে, সেই কর্মসূচি নিয়ে তারা এগোতে চায়। তবে একটা বিষয়ে সবাই একমত একটা নির্বাচন হওয়া দরকার। নির্বাচনটা শুধু একটা দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার জন্য একটা পথ, একটা দরজা। আজকে প্রশ্ন উঠছে যে, সব সংস্কার করে তবেই নির্বাচন! তাহলে কি আমরা চার-পাঁচ বছর অপেক্ষা করব বা যতদিন সংস্কার সম্পন্ন না হয়? এতদিন অপেক্ষা করলে জনগণ তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।’
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা দেখছি, আমাদের আমলাতন্ত্র যে ব্যবস্থায় ছিল সে ব্যবস্থায়ই এখনো সচিবালয় থেকে শুরু করে সব প্রশাসন চলছে; তাদের ভূমিকার বদল হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়া প্রায় বন্ধ, স্কুল-কলেজগুলোতে লেখাপড়া হয় না, স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে, এটা অতীত থেকেই এসেছে। পরিবর্তন এত অল্প সময়ে সম্ভবও নয়, কিন্তু আমরা পরিবর্তন চাই। এ কারণেই আমরা বলেছি যে, নির্বাচনটা দ্রুত হওয়া দরকার। নির্বাচন দ্রুত হলে যে দল ক্ষমতায় আসবে, তার যে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট টু পিপল থাকবে, তা পালনে অবশ্যই তারা দায়বদ্ধ থাকবে।’
এদিকে গতকাল পটুয়াখালীর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সম্পূর্ণ মনোযোগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। ২০২৫ সালের শেষদিকে বা ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের জনগণকে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে ধারণা দিতে গিয়ে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হবে এবং ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে।’ তিনি বলেন, ‘ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য দেশ জুড়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। যারা তথ্য সংগ্রহ করছেন, তাদের আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় ভুল হচ্ছে, এতে মানুষ সেবা নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা দরকার।’ তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইউএনডিপির প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ‘জানুয়ারির ১ তারিখে নির্বাচন করতে হলে ডিসেম্বর থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়। ব্যাকওয়ার্ড ক্যালকুলেশনে যতগুলো জিনিস আছে আমরা সবগুলো নিয়েই কাজ করছি।’
কল রেকর্ড পেতে একরামের স্ত্রীকে কোটি টাকার প্রস্তাব
খোলাবাজারে ১৯ হাজার পাঠ্যবই জব্দ
হাসান-ছাবেরুল মাদক বেচে বিত্তশালী