জিম্মি ৪ নারী সেনার বিনিময়ে মুক্তি পেল ২০০ ফিলিস্তিনি

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩০ এএম

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় ইসরায়েলি জিম্মি চার নারী সেনাকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। গতকাল শনিবার গাজার প্যালেস্টাইন স্কয়ারে আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয় ইসরায়েলি চার নারী জিম্মিকে। পরে হামাস ও রেডক্রসের মধ্যে কাগজপত্র স্বাক্ষর হওয়ার পর জিম্মিদের নিয়ে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে রেডক্রসের প্রতিনিধিরা।

মুক্তি পাওয়া ইসরায়েলি চার নারী সেনা হলেন লিরি আলবাগ (১৯), কারিনা আরিয়েভ (২০), ডেনিয়েলে গিলবোয়া (২০) এবং নামা লেভি (২০)। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চার নারী ইসরায়েলের একটি সামরিক নজরদারি ইউনিটের সদস্য। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার কাছে ইসরায়েলের নাহাল ওজ সামরিক ঘাঁটি থেকে তাদের আটক করে নিয়ে যায় হামাস।

রেডক্রসের কাছে হস্তান্তরের আগে জিম্মিদের একটি মঞ্চে তোলা হয়। এ সময় তাদের হাস্যোজ্জ্বল ও হাত নাড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়। ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির এই অনুষ্ঠানস্থলে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সশস্ত্র সদস্যদের দেখা যায়। ওই চার নাগরিককে ফিরে পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, গাজা সীমান্তের কাছে ইসরায়েলের এক সামরিক ঘাঁটিতে মুক্তিপ্রাপ্তদের সঙ্গে তাদের পরিবারের পুনর্মিলন হয়। এরপর তাদের দেশের মধ্যাঞ্চলের একটি হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কথা জানানো হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, চার জিম্মির বিনিময়ে প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে তেল আবিব। জিম্মি মুক্তির আগে হামাস শনিবার ছাড়া পেতে যাওয়া এসব ফিলিস্তিনি বন্দির নাম-পরিচয়ও প্রকাশ করে। এদের মধ্যে ৬৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি যেমন আছেন, তেমনি আছে ১৫ বছর বয়সীও। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এসব ফিলিস্তিনি বন্দিরদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের দুই কারাগার থেকে ফিলিস্তিনিদের দুই গ্রুপকে মুক্তি দেওয়া হয়। ইসরায়েলের ওফার কারাগারে থাকা প্রথম গ্রুপটিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ছেড়ে দেওয়া হবে। নেগেভ মরুভূমি কারাগারে আটক দ্বিতীয় গ্রুপটিকে গাজা উপত্যকায় মুক্তি দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত