বেশি ঘুমালে কি প্রজনন ক্ষমতা কমে?

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫০ পিএম

ঘুম শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বেশি ঘুমানোর অভ্যাস একবার করলে তা সহজে ছাড়ে না। আর এই ফাঁদে পা দেন অনেকেই। এতে ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই কেটে যায় বেলা। কিন্তু সুস্থ থাকতে হলে ঘুম নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। বিশেষ করে ছুটির দিনে বেশি ঘুমের কথা অনেকের কাছে শোনা যায়। কিন্তু বেশি ঘুমের ফলে দেখা যায় মন মেজাজ খারাপ থাকে আবার আত্মবিশ্বাসও কমতে থাকে। পর্যাপ্ত ঘুম যেমন জরুরি, তেমনই প্রয়োজন ঘুম নিয়ন্ত্রণ করা।

শরীরের পাশাপাশি ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনেও সহযোগীতা করে। এমনকি শারীরিক নানা কার্যকলাপ সঠিক ভাবে পরিচালনা করতেও ঘুমের প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, বয়স, শারীরিক সক্রিয়তা এবং স্বাস্থ্যের ধরন অনুযায়ী সকলেরই ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। বেশি ঘুমানোর অভ্যাস আছে অনেকেরই। একটু সুযোগ মিললো এমন সময়ে ঘুম এড়ানোটা কষ্টকর।  বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরা অবশ্য বলেন, বেশি ঘুম ভালো নয়। কথাটা কিন্তু ভুল নয়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ক্ষতির কারণগুলো কী কী ?

ওজন বৃদ্ধি

বেশি ঘুমলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ওজন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত সব রোগও বাড়তে থাকে ঘুমের সঙ্গেই। 

মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল

অতিরিক্ত ঘুমে মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। স্ট্রোকের উপসর্গ প্রথম থেকেই আন্দাজ করা সম্ভব হয় না। অনেকের ঘুমের মধ্যেও স্ট্রোক হয়। অবশ্য সাময়িক গবেষণা থেকে জানা যায় না ঘুমের সাথে স্ট্রোকের সম্পর্কটা আদৌ কিভাবে সম্ভব। তবে পর্যবেক্ষণ থেকে এমনটাই জানা যায় বেশি ঘুমানোর ফলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায়।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা

বেশি ঘুমালে দেহে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে শুরু করে ৷ এতে শরীরে মেদ জমে। মেদ অবশ্যই স্ট্রোকের কারণ। এছাড়াও প্রচণ্ড মানসিক অবসাদ শরীরে ক্লান্তি আনে। তাতে অনেকে বেশি ঘুমান। আর এসব কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়তে শুরু করে। তাই বেশি ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে দ্রুত পরিহার করুন। আরাম প্রিয়তাকে কিছুটা সংযত রাখতে পারলে আপনারই লাভ।

মানসিক অবসাদ

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলে শরীরে বা মনে তরতাজা ভাব কাজ করে। অতিরিক্ত ঘুমিয়ে বেলা করে উঠলে আলস্য লাগে, চনমনে ভাব থাকে না। কোনও কাজেই তেমন উৎসাহ পাওয়া যায় না। 

প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া

বেশিক্ষণ ঘুমলে শারীরিক সক্রিয়তা অনেকটাই কমে যায়। ফলে মহিলা এবং পুরুষ উভয়েরই প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব পড়ে। শারীরিক ভাবে সক্ষম না থাকলে, প্রজননে সাহায্যকারী হরমোনগুলির ভারসাম্যও নষ্ট হয়।

হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা

বেশি ঘুমলে দিনের অনেকটা সময় শুয়ে শুয়েই অতিবাহিত হয়ে যায়। শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে যেটুকু শরীরচর্চা প্রয়োজন, রোজ সেইটুকু করতে না পারলে হার্টের সমস্যা হবেই। শুধু তা-ই নয়, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা বাড়াতে পারে রক্তের এমন সব গোলমাল ঘটাতে পারে অতিরিক্ত ঘুমে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত