কুমিল্লা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে যুবদল নেতাকে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ 

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫৮ পিএম

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবি ইউনিয়নের যুবদলের আহবায়ক তৌহিদুল ইসলামকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। নিহত তৌহিদুল ইটাল্লা গ্রামের মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে।  

নিহত যুবদল নেতা তৌহিদুল হাসানের চাচাতো ভাই রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) যুবদল নেতা তৌহিদের বাবা ও আমার চাচা মোখলেছুর রহমানের কুলখানী। তিনি চার দিন আগে মারা যান। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে আমরা বাড়িতে কুলখানীর জন্য গরু জবাই করি। রাত ২ টা থেকে আড়াইটার দিকে যৌথ বাহিনী বাড়ি থেকে তৌহিদকে তুলে নিয়ে যায়। আজ শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা পোনে বারটার দিকে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার এস আই মোরশেদ ফোনে জানান তৌহিদের অবস্থা খুব খারাপ। আমরা যেন দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। কুমেক হাসপাতালে আসার পর দেখি তৌহিদ আর নেই, সে মারা গেছে।

 

এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিহত তৌহিদকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার কর্তৃব্যরত পুলিশ অফিসার এস আই মোরশেদ বলেন, সাড়ে ১১টার দিকে থানার ডিউটি অফিসার আমাকে জানান, স্যার যৌথ বাহিনী ফোন করে বলেছে, ঝাকুনীপাড়া গোমতী বিলাসে দ্রুত যাওয়ার জন্য। ওসি স্যারকে বলে আমি গাড়ি নিয়ে যাই। তখন যৌথ বাহিনী আমাকে তৌহিদকে নিয়ে যেতে বলে। কিন্তু তৌহিদের অবস্থা বেগতিক দেখে আমি তাদের বলি আমি একা নিব না। আপনারাও আসেন। কিন্তু তারা আসতে রাজি হয়নি। পরে আমি তৌহিদকে যখন গাড়িতে উঠাই তখনো তার জীবন ছিল। কিন্তু কুমেক হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে, নিহত যুবদল নেতা তৌহিদের স্বজনরা জানান, একই এলাকার ফজলু মিয়ার ছেলে তানজিম আহমেদের সাথে তৌহিদের জমি সংক্রান্ত ঝামেলা ছিল। তাদের অভিযোগ তানজিমরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে যৌথ বাহিনীকে তৌহিদের বিরুদ্ধে প্রভাবিত করছে। যখন যৌথ বাহিনী তৌহিদকে আটক করে নিয়ে আসে তখন সাথে ছিল আরেক স্থানীয় রহমত আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম। তারাই যৌথ বাহিনীকে দিয়ে তৌহিদকে হত্যা করেছে বলে গণমাধ্যমকে জানান।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম জানান, এ বিষয়েঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমার দ্বারা কোনো কিছু বলা সম্ভব না।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কুমিল্লা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপি, আমড়াতলী ইউনিয়ন ও পাঁচথুবি ইউনিয়ন বিএনপি এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে যুবদল নেতা তৌহিদ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত