মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েও দুশ্চিন্তায় মাকসুদা

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩০ এএম

মাকসুদা আল বারী মিম। লালমনিরহাটের প্রত্যন্ত এক গ্রামের মেয়ে। বাবা রাজমিস্ত্রি, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। ছোটবেলা থেকেই মাকসুদা জানত তার পরিবারের জন্য পড়াশোনা একটা বিলাসিতা। তবুও সে থেমে থাকেনি। স্কুলজীবন থেকেই সে বইয়ের পাতায় ডুবে থাকত। পড়াশোনার প্রতি ছিল অবিরাম টান। নবম শ্রেণিতে ওঠার পর বুঝতে পারে নিজের খরচ নিজেকেই চালাতে হবে। তাই অন্য শিক্ষার্থীদের পড়ানো শুরু করে। দিনে স্কুল, সন্ধ্যায় টিউশনি, আর রাতে পড়াশোনা এই ছিল তার রুটিন।

মাকসুদার বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ গ্রামে। তিন বোনের মধ্যে সবার বড় সে। ২০২২ সালে মাকসুদা ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে দুরাকুটি কামরুন্নাহার ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। মাকসুদার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার। কিš‘ স্বপ্ন দেখা আর সেটি বাস্তবায়ন করার মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান, তা বারবার অনুভব করেছে মাকসুদা।

মাকসুদার বাবা কখনো রাজমিস্ত্রি, কখনো কৃষিকাজ করেন। ৮ শতকের বসতভিটা আর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১১ শতাংশ জমিই তাদের সম্বল। একটি দুধেল গাইসহ বাছুরও আছে। এটির দুধ বিক্রি করে ও বর্গা নেওয়া দুই বিঘা জমিতে আবাদ করে টেনেটুনে সংসার চালান মিজানুর ও আরিফা দম্পতি। মাকসুদার ছোট বোন মারিয়াতুন আল বারী মেঘনা লালমনিরহাট শহরের মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। আর ছোট বোন মাহমুদা আল বারী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে।

 ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাকসুদা। দারিদ্র্যের কারণে কোচিং করতে পারেনি, বই কেনার সামর্থ্যও ছিল না। কিন্তু আত্মবিশ্বাস হারায়নি। ইন্টারনেট থেকে পড়াশোনা করেছে, পুরনো বই সংগ্রহ করেছে, শিক্ষকদের সহায়তা নিয়েছে। আর তাতেই বাজিমাত! মেধাতালিকায় তিন হাজার ৩১১তম হয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে সে।

মাকসুদা আল বারী মিম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। অনেক বাঁধা পেরিয়ে এই পর্যন্ত এসেছি। আমার বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। আমার ছোট বোন মারিয়াতুন আল বারী মেঘনা লালমনিরহাট শহরের মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। আমি আর আমার বোন প্রাইভেট পড়িয়ে লেখাপড়া চালাই।’

মাকসুদার বাবা মিজানুর রহমান বলেন, তিনি মেয়েদের পড়াশোনার খরচ দিতে পারেন না। তিন বোনের মধ্যে মাকসুদা ও আরেক মেয়ে টিউশনি করে সবার পড়ার খরচ জোগাড় করেন। এখন মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে মাকসুদা। মেয়েকে কীভাবে সেখানে ভর্তি করাবেন সেই চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারছেন না। ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, ‘মাকসুদা খুব মেধাবী। যদি সমাজের মানুষ সাহায্যের হাত বাড়ায়, তাহলে এক দিন এই মেয়ে ডাক্তার হয়ে আমাদের সেবা দেবে বলে মনে করি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত