সুনামগঞ্জে জামায়াত আমির

গণহত্যার বিচার হতে হবে, প্রয়োজনে নির্বাচন পরে হোক

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩৩ এএম

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গণহত্যার বিচার হতে হবে। বিগত সময়ে এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যারা মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার এ দেশে নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে নির্বাচন আরও পরে দেওয়া হোক।’  

গতকাল শনিবার দুপুরে শহরে জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে কর্মী সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের মাথার তাজ পাঁচজন নেতাকে একে একে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর তারা বলতেন আলহামদুলিল্লাহ। ফাঁসির দিন সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন দেখা করতেন। তখন পরিবারের লোকজনকে সান্ত¡না দিতেন। সব কিছু সম্পন্ন হওয়ার পর তারা দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। তারা স্বেচ্ছায় ফাঁসির তকতায় গিয়ে দাঁড়াতেন। দুনিয়ার কোনো অপশক্তির কাছে আপস করেননি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের নেতারা বলেন দেশের চেয়ে দল বড়। কিন্তু না, আমরা দেখি দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়। ধোঁকাবাজির রাজনীতি যারা করবে, তাদের মাধ্যমে দেশের আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের পেট বন্ধক দিয়েছি অন্য দেশে। মাথাও বন্ধক দিয়েছি কি না, আল্লাহ জানেন। দেশের মেধাবীরা দেশ থেকে পড়াশোনার জন্য গেলে আর ফেরে না। কিন্তু দু থেকে আড়াইশ বছর আগেও আমাদের দেশের ওপর মোগল, ব্রিটিশ ও পর্তুগিজরা ঝাঁপিয়ে পড়ত ভাগ্য গড়ার জন্য। কিন্তু এখন উল্টো রথ কেন?’

ডা. শফিকুর রহমান নিজের দলের নেতাকর্মী সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা কোনো জলমহাল বালুমহাল কোনো কিছুতেই ঝাঁপিয়ে পড়ছেন না। আমাদের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত না। আমাদের নেতারা মামলা বাণিজ্যর সঙ্গে জড়িত না। কেউ যদি অপরাধ করে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। কিন্তু নিরীহ মানুষ কাউকে হয়রানি করা যাবে না। আমাদের নেতাকর্মীরা ৫ আগস্টের পর থেকে টানা ১৫ দিন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পাহারা দিয়েছেন। সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ক্ষমতায় যেতে পারি তাহলে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেব শিক্ষায়। আমরা যে আধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তুলব, সে শিক্ষা হবে কর্মমুখী শিক্ষা। একজন পড়াশোনা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে ওই শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হবে। আমরা চাই, আমাদের বেশি বেশি সমালোচনা করুন। সমালোচনা করলে আমাদের কাজের গতি আরও বাড়বে। আমরা যদি ভালো কাজ করতে না পারি, তাহলে আমাদের ছেড়ে যাবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ডাক্তার হিসেবে কাজ করেছি। বর্তমানে আয়তনের দিক থেকে অনেক বড়। সুনামগঞ্জ মাছের অভয়াশ্রম। আমাদের দেশের প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ যেকোনোভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত।’

সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগর উত্তরের আমির ফখরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সিলেট জেলা শাখার আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাভোকোট শামসউদ্দিন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত