নামি বিদেশিতেই ভরাডুবি রংপুরের

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:৪৭ এএম

দুবাই থেকে ঢাকার দূরত্ব সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটারের কিছুটা বেশি। বিমান যাত্রায় সময় লাগে সাড়ে চার ঘণ্টার মতো। রবিবার রাতে দুবাইতে ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-২০-এর ম্যাচ খেলে বিমানে চেপে সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন টিম ডেভিড, আন্দ্রে রাসেল ও জেমস ভিন্স। তিনজনই দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়া বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে মাঠে নেমেছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে, খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে। তিন ‘হেভিওয়েট’ বিদেশির সম্মিলিত অবদান ১২ রান! ম্যাচ জেতার জন্য যাদের ওপর বেশি ভরসা করেছিল রংপুর, তারাই একত্রে ডুবিয়েছেন রংপুরকে। খুলনা টাইগার্সের কাছে ৯ উইকেটে হেরে এলিমিনেটর থেকে বিদায় নিল আসরে নিজেদের প্রথম ৮ ম্যাচ জিতে একটা সময়ে শীর্ষে থাকা রংপুর রাইডার্স। খুলনাকে ফাইনালে ওঠার পথে হারাতে হবে চিটাগং কিংস/ফরচুন বরিশালকে।

টস জিতে আগে ব্যাটিং নিলেন নুরুল হাসান সোহান, রংপুরের অধিনায়ক। সকালেই ঢাকায় নামা বিদেশি ক্রিকেটারদের একটু মাঠের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বা ফ্লাইটের ধকল সামলে ওঠার সময়টাও দিলেন না, যে সিদ্ধান্তটা অবাক করারই মতো। যদিও সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের ভাষায় সেটা বড় সমস্যা নয়, ‘রংপুর রাইডার্স ম্যানেজমেন্ট বড় তারকা ও কোয়ালিটি ক্রিকেটার আনার চেষ্টা করেছে। আমার মনে হয় না (মানিয়ে নেওয়া কঠিন)। তারা যেহেতু বিজনেস ক্লাসে এসেছে, ওই সমস্যাটা হওয়ার কথা না। আবহাওয়াও ভিন্ন নয়। দুবাইয়ে তারা একই রকম আবহাওয়াতেই ছিল। হয়তো তারা রাতে খেলে এসেছে, এটা একটা (সমস্যা) হতে পারে। তবে তারা পেশাদার ক্রিকেটার। ওই জায়গা থেকে মনে হয় না অতটা সমস্যা ছিল।’ এই তিন হেভিওয়েটকে জায়গা দিতে গিয়ে রংপুর একাদশ থেকে ছেঁটে ফেলে ১২ ম্যাচেই একাদশে থাকা ইফতিখার আহমেদকে। ৩০৫ রান করা ইফতিখারকে বসিয়ে রাখার ফলটা হাতেনাতে পেয়েছে রংপুর, ইনিংস যখন তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ছে, তখন একটা প্রান্ত আগলে রাখার কেউ নেই। ভিন্স ৭ বলে ১ রান করে রিটার্ন ক্যাচ দিয়েছেন নাসুম আহমেদের হাতে, টিম ডেভিডও ৯ বলে ৭ রান করে শিমরন হেটমায়ারের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন সেই নাসুমের বলেই। ডেঞ্জারম্যান আন্দ্রে রাসেলকে ৪ রানে বোল্ড করেছেন মোহাম্মদ নাওয়াজ। ১৬.৫ ওভারে মাত্র ৮৫ রানে অলআউট হয়েছে রংপুর রাইডার্স, সর্বোচ্চ ৩২ রান করেছেন আকিফ জাভেদ আর সোহান করেছেন ২৩ রান। বাকিদের কেউ দুই অঙ্কের রানেও পৌঁছাতে পারেননি।

বড় মঞ্চের জন্য ‘বিগ গান’ শিমরন হেটমায়ার আর জেসন হোল্ডারকে দলে নিয়েছে খুলনা। কিন্তু সেই ‘বিগ গান’-এর গোলাবর্ষণের দরকারই পড়েনি। শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজ শূন্য রানে আউট হলেও মোহাম্মদ নাঈমের ৩৩ বলে ৪৮* ও অ্যালেক্স রসের ২৭ বলে ২৯* রানের ইনিংসে ১০.২ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় খুলনা। ৫৮ বল আর ৯ উইকেট হাতে রেখে পাওয়া জয়ে খুলনা পৌঁছে গেছে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে।

আগের মৌসুমেও প্লে-অফে এসে নিকোলাস পুরান, জেমস নিশামদের দলে নিয়েছিল রংপুর। কিন্তু লাভ হয়নি। এবারও একই ফরমুলায় উতরে যেতে চেয়েছিল রংপুর রাইডার্স, কিন্তু এবার আরও বড় ভরাডুবি। আশরাফুল মনে করেন, এই প্রক্রিয়াটা আদর্শ নয়, ‘ইংল্যান্ডে যেটা হয়, বিদেশি ক্রিকেটাররা লিগ পর্বে তিনটা ম্যাচ খেললে তারপর নকআউট পর্বে খেলার অনুমতি দেয়। আমাদের বিপিএলে এই ধরনের কোনো নিয়ম নেই। খেলার দিন সকালে নিয়ে এলেও খেলতে পারে। এটা তো অবশ্যই আদর্শ নয়।’

‘আমাদের কিন্তু গত বছর এই জিনিসটাই হয়েছিল। প্রচুর বিদেশি ক্রিকেটার তারা দুই ম্যাচ পরপর পরিবর্তন করেছে। এবার প্লেয়ার্স ড্রাফটে আমাদের পরিকল্পনা ছিল, যারাই খেলবে তারা যেন সর্বোচ্চসংখ্যক ম্যাচ খেলতে পারে। খুশদিল শাহ, আকিফ জাভেদ, ইফতিখার আহমেদ কিন্তু সব ম্যাচ খেলেছে। মাঝপথে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায় খুশদিলের চলে যেতে হয়েছে। আমাদের শুরু থেকে স্টিভেন টেলরও ছিল। তবে জিএসএলে যেভাবে খেলেছে, এখানে সেটা পারেনি। সেই কারণেই ম্যানেজমেন্ট চেষ্টা করেছে বড় নামগুলো আনার। এটা তো অবশ্যই আদর্শ নয়। দলের সঙ্গে যদি অন্তত দুই-তিন দিন না থাকে তাহলে তো দলের সদস্যদের চেনাও কঠিন হয়ে যায়।’ ম্যাচসেরা নাসুম আহমেদ অবশ্য রসিকতার ছলে বলেছেন, ‘তিনজন বিদেশি যে খেলবে তা তো আগে জানতাম না। শুনছিলাম আসবে। সেভাবে প্ল্যানও করতে পারিনি। একটু আগে বললাম তো এই উইকেটে বিদেশিদের বল করতে খুব ভালোই লাগে।’

বিদেশিদের এনে ট্রাম্প করতে চেয়েছিল রংপুর, মিরপুরের উইকেটে বামহাতি স্পিনে তাদের একাই ওভার ট্রাম্প করে দিয়েছেন নাসুম। তাতেই ভেস্তে গেছে রংপুরের প্রায় ১ লাখ ডলার! সরাসরি সই করানো এই তিন বিদেশিকে আনতে নাকি এমনটাই খরচ করেছে রংপুর রাইডার্স।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত