১০ বছর পর ফিরলেন মামুন

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:৪৭ এএম

আসন্ন এএইচএফ কাপ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্লাব হকিতে অন্যতম সফল কোচ মামুন উর রশীদকে। সাবেক এই তারকাকে সোমবার দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। এর আগেও একবার তিনি জাতীয় দল নিয়ে কাজ করেছেন। প্রায় এক দশক পর তিনি ফিরলেন এই দায়িত্বে। তার সহকারী হিসেবে রাখা হয়েছে আরেক সাবেক তারকা মশিউর রহমান বিপ্লবকে। ট্রেইনার হিসেবে কাজ করবেন সাবেক খেলোয়াড় আলমগীর ইসলাম। ২০ ফেব্রুয়ারি কুপার টেস্টের মধ্য দিয়ে দল গঠন প্রক্রিয়া শুরু করবেন মেরিনার ইয়ংসকে টানা দুবার লিগ শিরোপা জেতানো মামুন।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়েছেন মামুন। এর আগে ২০১৫ সালে প্রথম জাতীয় দলে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ক্লাব হকির পাশাপাশি কয়েক বছর অনূর্ধ্ব-২১ দল নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আরেকবার শিরোপা জেতাতে চান তিনি। ১৭ থেকে ২৭ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় বসতে যাচ্ছে এই টুর্নামেন্টের সপ্তম সংস্করণ। এর আগে ২০০৮, ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২২ সালে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম দুটি আসরের চ্যাম্পিয়ন ছিল হংকং। এই আসরটি এশিয়া কাপের বাছাইপর্ব হওয়ায় প্রতিবারই বাংলাদেশ খেলেছে এই অঞ্চলের শীর্ষ আসরে।

মামুন চান সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে, ‘এএইচএফ কাপে আমরা টানা চারবারের চ্যাম্পিয়ন। ফেডারেশন আমাকে এই আসরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব দেশকে আরেকবার সাফল্য এনে দিতে।’

ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান জানান, ১১ জন স্থানীয় কোচকে ডেকেছিল কোচ নিয়োগ কমিটি। সেখান থেকে আটজনের সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর মামুন উর রশীদকে চূড়ান্ত করা হয় শুধু এএইচএফ কাপের জন্য। অথচ এ বছর সেপ্টেম্বরে ভারতে হতে যাচ্ছে এশিয়া কাপ। তবে কমিটি চাইছে এই টুর্নামেন্টে দলের পাশাপাশি কোচ হিসেবে মামুন কেমন করেন সেটা পরখ করতে। রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘আমরা কোচ নিয়োগের জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছিলাম। তারাই আটজন কোচের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর মামুন উর রশীদকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে যোগ্য মনে করেছে। আমার ব্যক্তিগত মত হলো একজন কোচকে কমপক্ষে দুই বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তবে সেই সংস্কৃতি ফেডারেশনে গড়ে ওঠেনি। আমরা চেষ্টা করব যাতে এই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারি।’

অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর অবশ্য নানা কারণেই ভীষণভাবে সমালোচিত হচ্ছে। জাতীয় দলে ৩২ বছর ঊর্ধ্ব কোনো খেলোয়াড়কে না নেওয়ার একটি পরিকল্পনা করে রীতিমতো নজির সৃষ্টি করেছে ফেডারেশন। পৃথিবীর কোথাও কোনো খেলায় বয়সের সীমা টেনে দেওয়ার নজির নেই। বাংলাদেশেই হতে যাচ্ছে এমনটা। এ নিয়ে সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানের যুক্তি, ‘আধুনিক হকিতে এখন বেশি বয়সীদের খেলার সুযোগ নেই। একটা বয়সের পর সবাই খেলা ছেড়ে দেয়। তাই ফেডারেশন প্রাথমিকভাবে চিন্তা করেছে ৩২-৩৩ বছরের বেশি বয়সীদের জাতীয় দলে না রাখার। তবে এই ভাবনাটা কিন্তু একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। এটা পরিবর্তন হতেও পারে।’

জিমিকে কুপার টেস্টের সুযোগ না দিয়েই বুড়ো বলে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ মামুনও, ‘এ ব্যাপারে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না। যেহেতু আমি একটি চুক্তির আওতায় চলে গেছি, তাই বিতর্কিত কোনো বিষয় নিয়ে আমার পক্ষে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে আমার পলিসি হলো, আমি কখনোই ইন্ডিভিজুয়াল খেলোয়াড়কে কোনোদিনই গুরুত্ব দিই না। হকি হলো টিম গেম। এখানে ২০ জন খেলে। আমি তাই টিম স্পিরিটকে গুরুত্ব দিই। আর বাংলাদেশে এখন এমন কোনো খেলোয়াড় নেই যে এককভাবে জিতিয়ে আসতে পারে। আপনি মেরিনার্সের কথাই যদি ধরেন, আমি দুই বছর অখ্যাত খেলোয়াড় নিয়েও কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। দলের মূল শক্তি ছিল দলের সবাই সমান, এখানে কোনো সুপারস্টার নেই। সুপারস্টার তকমাটা আমি কখনোই মানি না। আমার দলে এটা হতেও দিতে চাই না।’

২০ তারিখ কুপার টেস্টের পর মামুন বেছে নেবেন প্রাথমিক দল। এরপর বিপ টেস্টের মাধ্যমে শুরু হবে এএইচএফ কাপের প্রস্তুতি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত