বদলে যাওয়া মানসিকতায় টি-টোয়েন্টিতে নতুন শুরু রুটের

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৫৫ পিএম

ইংল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে জো রুটের নাম খুব বেশি উচ্চারিত হয় না। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক সীমিত ওভারের ক্রিকেটে খুব একটা সময় দিতে পারেননি। তবে বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট, বদলে যাচ্ছে রুটের ভূমিকাও। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত এসএ২০ টুর্নামেন্টে দারুণ পারফর্ম করে প্রমাণ করেছেন, এখনো তিনি ছোট ফরম্যাটেও কার্যকর একজন ব্যাটার।

২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার পর রুটের বেশিরভাগ সময় কেটেছে লাল বলের ক্রিকেটে। এই সময়ে তিনি মাত্র ৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলেছেন, যেখানে ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য ম্যাচ ছিল ১০৮টি। এছাড়া ঘরোয়া ব্লাস্ট ও হান্ড্রেড মিলিয়ে খেলেছেন মাত্র ৪০টি ম্যাচ, যেখানে সম্ভাব্য ম্যাচ ছিল ১৩৪টি।

'টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলতে না পারার পেছনে কারণ ছিল সূচির ব্যস্ততা,' পার্ল রয়্যালস-এর হয়ে এসএ২০ খেলতে গিয়ে বললেন রুট। 'টেস্ট অধিনায়কত্ব, ওয়ানডে বিশ্বকাপ (২০১৯) এবং বিশ্রামের প্রয়োজনের কারণে আমার পক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলা সম্ভব হয়নি। ততদিনে অন্যরা সুযোগ পেয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে এবং আমি দলের বাইরে চলে গিয়েছি। তবে এখন সুযোগ এসেছে আবারও এই ফরম্যাটে নিজেকে প্রমাণ করার, এবং আমি সেটা উপভোগ করছি।'

এসএ২০-এ পার্ল রয়্যালস-এর হয়ে ৮ ম্যাচে ৩য় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন রুট। ১৮ বছর বয়সী লুহান-দ্রে প্রিটোরিয়াসের সঙ্গে ওপেনিংয়ে দারুণ এক জুটি গড়েছিলেন তিনি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রান তাড়া করার ম্যাচে অপরাজিত ৯২ রান করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এই ইংলিশ ব্যাটার। এছাড়া স্লো পিচে ৭৮ রানের ইনিংস খেলেও নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছেন।

সাদা বলের ক্রিকেটে ফেরার পাশাপাশি ব্যাটিং নিয়েও ভিন্নভাবে ভাবছেন রুট। ইংল্যান্ডের বর্তমান প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের প্রশংসা করে তিনি বলেন, 'ম্যাককালাম আমার চিন্তার ধরন বদলে দিয়েছেন। আগে আমি কৌশলগত দিক নিয়ে বেশি ভাবতাম, এখন পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে শিখেছি।'

ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে 'বাজবল' নীতির কারণে ব্যাটারদের আগ্রাসী মানসিকতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু রুট মনে করেন, এটা শুধুই 'আক্রমণাত্মক খেলা' নয়, বরং সঠিক মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা।

'আমাদের বলা হয় না যে, পাঁচ রান করে তুলতেই হবে বা খুব বেশি আক্রমণ করতে হবে। বরং যারা স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত রান তুলতে পছন্দ করে, তাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে দেওয়া হয়,' ব্যাখ্যা করলেন রুট। 'ম্যাককালাম আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, ভুল হলে শাস্তি নেই, বরং সেটাকে শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে নেওয়া হয়।'

বোলিংয়েও নতুন সম্ভাবনা?

এসএ২০-এ ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ১৯ ওভার বল করে ৫ উইকেট নিয়েছেন রুট, যার ইকোনমি ৭.০০। এই পারফরম্যান্সের পর এখন প্রশ্ন উঠছে, ভারত এবং পাকিস্তান সফরে কি তাকে বোলিং করতেও দেখা যাবে?

এ বিষয়ে রুট বলেন, 'এটা নির্ভর করবে দলের চাহিদার ওপর। যদি কোনো ম্যাচে বাড়তি বিকল্প দরকার হয়, তাহলে আমি তৈরি। বিশেষ করে উপমহাদেশের কন্ডিশনে স্পিন কাজে লাগতে পারে।'

এসএ২০ শেষ করে ইতোমধ্যেই ভারতে পৌঁছেছেন রুট, যেখানে ২০২৩ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার ওয়ানডে খেলবেন তিনি। সামনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, আর তার প্রস্তুতিতেই থাকবে এই সফর।

'ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা সবসময়ই অগ্রাধিকার। এই তিনটি ওয়ানডে আমাদের দল হিসেবে আরও গুছিয়ে উঠতে সাহায্য করবে,' বললেন রুট।

এসএ২০-এ দুর্দান্ত পারফর্ম করে ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের নামটা আবারও জুড়ে দিয়েছেন রুট। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নতুন জো রুট কতটা ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত