আমি কিছুতেই থামবো না, লড়াইয়ের শেষটা দেখতে চাই : সুমাইয়া

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৫২ পিএম

জাতীয় নারী ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড মাতসুশিমা সুমাইয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের ফেসবুক পেইজে এমন অভিযোগ করেন সুমাইয়া। জাতীয় দলের কোচ পিটার বাটলারের অধিনে অনুশীলন না করার ঘটনার জেরেই এমন হুমকি।

কোচের অধীনে অনুশীলন না করার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে দেওয়া ইংরেজি ভাষায় লেখা চিঠিটা লিখেছিলেন সুমাইয়া। এটাই কাল হয়েছে তার। ফুটবল ফ্যানের আড়ালে অনেকেই সুমাইয়াকে দিয়েছে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে বাফুফের নির্বাহী সদস্য ও নারী ফুটবল কমিটির প্রধান মাহফুজা আক্তার সুমাইয়া ক্যাম্পে আসতে এবং সিনিয়র ফুটবলারদের সঙ্গে মিশতে নিষেধ করেছেন!

ঢাকায় বাসা থাকলেও সুমাইয়া বেশিরভাগ সময় অন্য সতীর্থদের সঙ্গে বাফুফে ভবনের ক্যাম্পেই থাকেন। সপ্তাহে এক-দুই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করার জন্য বাসায় থাকেন। এই ক্লাস করার জন্যই বাসায় গিয়েছিলেন সুমাইয়া।

আজ মঙ্গলবার স্ট্যাটাস দেওয়ার পর তাকে ফোন করেন মাহফুজা আক্তার কিরণ। ফোনে তাকে ক্যাম্পে না ফিরতে এবং সাবিনা খাতুনসহ কোচের বিরুদ্ধে যারা তাদের সঙ্গে মিশতে না করেন।

সুমাইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'তিনি (কিরণ) আমাকে এবং আমার বাবাকে বলেন যাতে ক্যাম্পে না যাই এবং সিনিয়রদের সঙ্গে না মিশি। সিনিয়ররা নাকি আমার ব্রেন ওয়াশ করেছে! আমি বলেছি, ভালোমন্দ বোঝার বয়স আমার হয়েছে। কেউ আমার ব্রেনওয়াশ কেন করবে। বাবাকে পরে সব বিষয় যখন বুঝিয়ে বলেছি, বাবা বলেছেন আমি যে সিদ্ধান্ত নেবো তাতে তার সমর্থন থাকবে।'

ক্যাম্পে ফেরার কথা জানিয়ে সুমাইয়া বলেন, 'আমি এই লড়াইয়ে শুরু থেকে ছিলাম, আছি, শেষ পর্যন্ত থাকবো। আমাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলা একজন কোচের অধীনে কোনভাবেই খেলবো না।'

ক্যাম্পে ফিরতে এবং সতীর্থদের সঙ্গে মিশতে কিরণ মানা করতে পারেন না দাবী করে সুমাইয়া যোগ করেন, 'একটা বিশেষ কমিটি পুরো বিষয়টি দেখছে। এই অবস্থায় একজন খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে আসতে এবং অন্যদের সঙ্গে মিশতে নিষেধ করার অধিকার কারও আছে বলে আমার মনে হয় না। যে যাই বলুক, আমি কোন কিছুতেই থামবো না। লড়াইয়ের শেষটা দেখতে চাই। দীর্ঘ ১৫ বছর এই মেয়েরা দেশকে অনেক কিছু এনে দিয়েছে। এর নুন্যতম সম্মানটা মেয়েরা প্রাপ্য।'

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত