ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে নিহত ৩ জনের বাড়ি গোপালগঞ্জ

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৪ এএম

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি গোপালগঞ্জে। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এ ছাড়া সাইফুল ব্যাপারী নামে আরও এক যুবকের খোঁজ পাচ্ছে না পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন জেলার মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের চরপ্রসন্নদী গ্রামের মেহেদী শেখের ছেলে আরাফসান ইসলাম আশিক (১৮), একই গ্রামের ওহাব খন্দকারের ছেলে সাত্তার খন্দকার (৪০) ও মোল্লাদী গ্রামের আবদুল মজিদ শেখের ছেলে রফিকুল শেখ (২৫)।

রফিকুলের চাচা মো. জয়নাল শেখ জানান, স্বপ্নপূরণ করতে ইতালি যাওয়ার জন্য নিজের ভিটেবাড়ি সব বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা দিয়েছিল। বাবা-মাহীন জয়নালের এক বড় ভাই ছাড়া পরিবারে আর কেউ নেই।

নিহত আশিকের বাবা মেহেদী শেখ বলেন, ‘ছেলেকে ইতালি পাঠানোর জন্য লোন করে ও আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ১৭ লাখ টাকা দিই পাশের শ্রীজিতপুর গ্রামের রকমান হাওলাদারের ছেলে বাবু হাওলাদারকে। লিবিয়া যাওয়ার পর তিন-চারবার কথা হয়। আমি দালাল বাবু হাওলাদারের শাস্তি চাই।’

সাত্তার খন্দকারের স্ত্রী লাবণী খন্দকার বলেন, ‘লিবিয়া পৌঁছানোর পর আমার কাছ থেকে তিন দফা টাকা নিয়েছে। ২৪ লাখ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও টাকা নিয়েছে ২৬ লাখ।’

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ষষ্ঠীপদ রায় বলেন, ‘এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুর জেলায় দালালচক্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। এ চক্রের তালিকাসহ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাহী বিভাগের কাছে সুপারিশ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে তারা এ কাজ থেকে বিরত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীন আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির পর লিবিয়ার ব্রেগা উপকূল থেকে এ পর্যন্ত ২০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনই মাদারীপুরের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত