বিক্ষোভে উত্তাল গাজীপুর, এক ছাত্র গুলিবিদ্ধ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৪ এএম

গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রম এলাকায় মাইকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন গাজীপুরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা শহরের রাজবাড়ি মাঠ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে রাজবাড়ি সড়ক অবরোধ করেন। আন্দোলনরতদের সঙ্গে যোগ দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

বিকেলে সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল গাজীপুর শহরে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা রাজবাড়ি সড়কের পাশে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এরই মধ্যে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক কর্মী আহত হন। তার নাম মোবাশি^র হোসাইন (২৬)। তিনি ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। 

এদিকে শুক্রবার রাতের হামলার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য সদর মেট্রো থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ছাত্ররা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। গোটা শহরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে ধীরাশ্রম এলাকা কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

গতকাল বিকেলে রাজবাড়ি সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এ দেশটা আমাদের। এ দেশের নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আমরা পুলিশকে সহযোগিতা করব। তারা মানে এই নয় যে, পুলিশ মামলা বাণিজ্য করবে। ১৫ জনকে ধরেছে আর পরের দিনে তাদের জামিন দিয়ে দেবে। তিনি বলেন, আ ক ম মোজাম্মেল হচ্ছে গণহত্যাকারী। সে আওয়ামী লীগের দোসর। আমরা ছাত্রদের নিয়ে ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। ১৭ বছর ধরে যারা নিপীড়ন চালিয়েছে এই গাজীপুরকে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘরে পরিণত করেছে তাদের অপারেশন ডেভিল হান্ট-এর মাধ্যমে ধরতে হবে। একটাও যেন বাদ না যায়।

জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, খুনি হাসিনার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা এখনো গাজীপুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই সন্ত্রাসীরা এখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের যোদ্ধাদের হুমকি দিচ্ছে। এই অন্তর্বর্তী সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ইন্টেলিজেন্স যদি আজ রাতের মধ্যে গতকালের হামলায় জড়িত খুনি সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে না পারে তাহলে আমাদের তাদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।

সকাল থেকে গাজীপুর শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শহরের রাজবাড়ি সড়ক ও রাজবাড়ি ময়দানে এসে জড়ো হয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নানা সেøাগান দিতে থাকেন। তারা এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেন।

গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রম এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের ওপর হামলায় জড়িত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে না পাঠানো পর্যন্ত রাজপথে অবস্থানের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

সমাবেশ শেষে দুর্বৃত্তের গুলিতে এক শিক্ষার্থী আহত : গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক কর্মীকে গতকাল সন্ধ্যায় গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। গুলিবিদ্ধ যুবকের নাম মোবাশি^র হোসাইন (২৬)। তার পিতা আলী আহমেদ। তিনি গাজীপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন কর্মী ও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নগরীর হাড়িনাল এলাকায়। তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই মোবাশি^র হোসাইন গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি সমাপ্তির পর তারা আহত ছাত্রদের দেখতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তার ডান হাতে গুলি লেগেছে। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এর আগে, শুক্রবার রাতে সন্ধ্যায় অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে ছাত্র প্রতিনিধি আটকের খবর দেওয়া হয়। এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় এক সমন্বয়ক-সহ ছাত্র-জনতার ২০/৩০ জনের একটি দল সেখানে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ১৫ জন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ হামলার প্রতিবাদে রাতেই গাজীপুর মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বিকালে শহরের রাজবাড়ি সড়কে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে গাজীপুর সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমানকে বরখাস্তের ঘোষণা দেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান। এ ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হাসপাতালে সারজিস ও হাসনাত আব্দুল্লাহ : শুক্রবার রাত ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে এবং তাদের খোঁজখবর নিতে রাতেই গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন সারজিস ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। 

যেভাবে হামলা করা হয় শিক্ষার্থীদের : ঢাকায় ধানমন্ডির ভাঙচুরের ঘটনার পর গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা প্রচার করেন কোথাও কোনো প্রকার ভাঙচুর না করার জন্য। সন্ধ্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা খবর পান ধীরাশ্রম এলাকায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা গণহত্যা মামলার আসামি আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাসায় ভাঙচুর ও লুটপাট করা হচ্ছে। ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ছাত্রনেতারা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় মাইকে ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা, রামদাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর হামলা চালায়। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বাড়ির ছাদে নিয়ে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে জখম করা হয়। যেসব শিক্ষার্থী আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে যান তারাও হামলার শিকার হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জনকে  ভর্তি করা হয়।

এদিকে হামলাকারীরা মোবাইল ফোনে লাইভে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধরের ভিডিও ধারণ করে প্রচার করে। আওয়ামী লীগের পেইজে আপলোড করে নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করে।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকায় শেখ মুজিবের বাড়ি ভাঙচুরসহ বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ি ভাঙচুর হওয়ার পর গাজীপুরে আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িটি সশস্ত্র পাহারা দিচ্ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি জানতেন না শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রমণের শিকার হন।

সদর থানার ওসি সাময়িক বরখাস্ত : শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে বারবার পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীরা ওই পুলিশ কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন। পরে বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সদর থানার ওসিকে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘোষণা দেন।

সমাবেশস্থলে পুলিশ কমিশনার : বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের সমাবেশ চলাকালে বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান সমাবেশস্থলে যান এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে আমাকে অন্যায়ভাবে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়েছিল। আপনাদের আন্দোলনের ফলে আপনাদের আন্দোলনের সঙ্গে আমিও আন্দোলন করেছি। এ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীন করেছি। তিনি বলেন, আপনাদের শরীরে যে ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্ত আমার শরীরেও একই রক্ত।

গত রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে সে জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের ওপর আঘাত করেছে তাদের প্রত্যেককে ধরে আইনের আওতায় আনা হবে। যেসব পুুলিশ দায়িত্বে অবহেলা করেছে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমাবেশে তিনি সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমানকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেন। তিনি আরও বলেন, যেসব পুলিশ ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আঁতাত করবে তাদের পুলিশের চাকরি করতে দেওয়া হবে না। এতদিনে যে ফ্যাসিবাদ পুলিশ তৈরি হয়েছে সেই ফ্যাসিবাদ থেকে পুলিশকে বের হয়ে আসতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, গত ১৭ বছর যারা আপনাদের অন্যায়ভাবে  নির্যাতন করেছে তারা আবারও এ দেশের ওপর জুলুম করছে এখনো তারা মাথাচাড়া দিচ্ছে। তাদের এ মাথাচাড়া দেওয়া কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

ধীরাশ্রমে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি শিক্ষার্থীদের জানান।

গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য ধীরাশ্রম এলাকা : শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মারধর করে আহত করার ঘটনার পর গাজীপুর মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ধীরাশ্রম এলাকা কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া গাজীপুরসহ সারা দেশে অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু হওয়ার খবরে ওই এলাকায় বয়স্ক নারীরা ছাড়া অন্য নারীরাও বাড়িঘর ত্যাগ করেছেন। 

গতকাল দুপুরে সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে দেখা যায় আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়ির সামনের সোনালি রঙের প্রধান ফটকটি বন্ধ রয়েছে। ফটকের সামনে কাচ ভাঙা টুকরা ও কয়েকটি সম্মাননা স্মারক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য লাঠিসোঁটা, জুতা ও জামাকাপড় পড়ে আছে। রাস্তাটি দিয়ে কোনো লোকজনের চলাফেরা খুবই সীমিত। আশপাশের বাড়িঘরগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক নেই। শুক্রবার রাতে ঘটনার পরপরই সবাই পালিয়ে গেছে। কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় কেবল বয়স্ক নারীরা বাড়িতে। পুরুষ লোকগুলো তাদের স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সবার মধ্যে একটি ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়ির সামনের মসজিদটিও তালাবদ্ধ। জোহরের আজান হয়নি। আশপাশের পরিবেশ নীরব ও নিস্তব্ধ। ধীরাশ্রম-টঙ্গী সড়কের দুই পাশে ঘটনাস্থলের কাছে সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। দিনভর গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের আনাগোনা ছিল সুউচ্চ সীমানা প্রাচীর দেওয়া দোতলা দৃষ্টিনন্দন এ বাড়িটির সামনে। 

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, রাতের বেলা ছাত্রদের নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকজন। কেউ এগিয়ে গিয়ে ছাত্রদের রক্ষা করতে গেলে তাদেরও নাজেহাল হতে হয়েছে। ছাত্ররা সেখানে লুটপাট ও ভাঙচুর করতে যাননি। তারা ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজন একজোট হয়ে ছাত্রদের বেধড়ক পিটিয়েছে। আহত ছাত্রদের হাসপাতালে নিতে গেলেও তারা বাধা দেয়। আর অভিযানের কথা শুনে বাড়ি ছেড়ে সবাই পালিয়ে গেছে।

এদিকে বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা চলে গেলে শেষ মুহূর্তে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সড়কের পাশে এক ছাত্রকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে পালিয়ে যায় এক দুর্বৃত্ত। এ গুলির ঘটনার পর শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা ফের শহরের রাজবাড়ি সড়কে এসে বিক্ষোভ করেন। তারা মিছিলে সেøাগানে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। শিগগিরই ওই দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত