যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৮

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৭ এএম

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত আট শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি চায়ের দোকানে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপে অসুস্থ হয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আমজাদ হোসেন। পরিস্থিতির নতুন করে অবনতি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ মোতায়েন করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি চায়ের দোকানে লিফট দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বরখাস্ত অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিবকে নিয়ে আলোচনা করছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোর জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেকা শাহনী ঊর্মি ও তার বন্ধুরা। এ সময় ঊর্মির সঙ্গে সিএসই বিভাগের স্বপন নামে এক শিক্ষার্থীর ধাক্কা লাগে। এ ঘটনায় ঊর্মি ও তার বন্ধুরা প্রতিবাদ করলে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগবিত-া হয়। পরে ঊর্মির বন্ধু ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যশোরের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিব আহমেদ শান সিএসই বিভাগের বরখাস্ত শিক্ষক সৈয়দ গালিবকে নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা শানের ওপর চড়াও হন। এরপর ঊর্মি ও শান প্রক্টর অফিসের দিকে যান। এ সময় সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের দিকে তেড়ে গেলে ঊর্মি মোবাইল ফোনে কল করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের ঘটনাস্থলে জড়ো করেন। এর পরই দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঊর্মির গায়ে হাত দেওয়ায় প্রশাসনিক ভবনের নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম দোলেনুর করিম এবং এফএমবি বিভাগের শিক্ষার্থী মাঞ্জুরুল হাসান আহত হন। পরবর্তী সময়ে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা মুন্সী মেহেরুল্লাহ হলের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এর পর দুপক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গভীর রাত পর্যন্ত সংঘর্ষ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যশোরের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেকা শাহানী ঊর্মি বলেন, ‘আমি ও আমার ব্যাচমেট শানসহ কয়েকজন চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। তখন সিএসই বিভাগের স্বপন হাসাহাসি করতে করতে আমার গায়ের ওপর এসে পড়ে। আমি বিরক্ত হলে স্বপন ও তার এক বন্ধু সরি বলে। এরপর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে সিএসইর কয়েকজন শিক্ষার্থী শানকে ডাকে। এটা দেখে আমি আমার বন্ধু ও ছোটভাইদের ডেকে জড়ো করি। এরপর সংঘর্ষ শুরু হয়।’

অন্যদিকে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর বলেন, ‘সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে আমাদের এক ভাইয়ের হাত ভুলবশত ঊর্মি আপুর গায়ে লেগে যায়। তখন সরি বলার পরও তার বন্ধু শান আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এজন্য আমরা প্রক্টর স্যারের কাছে বিচারের জন্য যাচ্ছিলাম। তখন শান ও এফএমবি বিভাগের দলিনুর এসে আমাদের সঙ্গে বিশৃঙ্খলা করে এবং লিমনকে ধাক্কা দিতে থাকে। এ সময় তারা আমাদের বিভাগের তিনজন ভাইকে মেরে গুরুতরভাবে আহত করে। তারা আমাদের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। আমরা তাদের ওপর হাত উঠাইনি, আমরা শুধু তাদের আক্রমণকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যবিপ্রবি প্রক্টর ড. মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘রাতেই সব সহকারী প্রক্টর একসঙ্গে হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মিছিল-মিটিং, মানববন্ধন-সমাবেশ করা যাবে না। করলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় আজ (গতকাল) তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আরও বলেন, ‘আমার ধারণা, এই সংঘর্ষের নেপথ্যে গালিবের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি থাকতে পারে। তা না হলে শুধু চায়ের দোকানে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে তুচ্ছ কথা-কাটাকাটির ঘটনায় ক্যাম্পাসে এত বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটার কথা নয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত