নাটোরের সিংড়ায় জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে সাতজন গুলিবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের কদমকুড়ি গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
সিংড়া থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কদমকুড়ি মাঠের কিছু জমির মালিকানা নিয়ে গ্রামের দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে বিরোধপূর্ণ জমিতে সেচ দিতে গেলে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এ সময় গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে কমদকুড়ি গ্রামের মান্নানের ছেলে মো. ফরিদ, আবুল হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. মাসুদ রানাসহ একই গ্রামের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত ইব্রাহিম বলেন, ‘আমাদের এলাকার বিএনপিকর্মী মানিক, রতন, রহিদুলসহ অনেকে আমাদের পৈতৃক জমি জবরদখল করতে চায়। আমরা এগুলোর বাধা দিতে গেলে তারা হুমকি দেয়। শনিবার সন্ধ্যার পরে বাজার থেকে আমরা আসার সময় ওরা আমাদের ওপর আক্রমণ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা আমাদের গুলি করে। আমাদের অনেকের গুলি লাগে। কোনোমতে পালিয়ে জীবন বাঁচিয়েছি।’
এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আহতদের প্রথমে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তাদের মধ্যে সাতজন গুলিবিদ্ধ। পরে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের নাটোর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সিংড়া থানার ওসি আসমাউল হক বলেন, ‘সেচ দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযুক্তরা সবাই পলাতক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।’
এদিকে বেনাপোল পোর্ট থানার বালু-া উত্তর পাড়ার অহিদ বিশ্বাস ও ফজলু বিশ্বাসের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ নিরসনে শনিবার রাতে ওই গ্রামে সালিশ বৈঠক বসে। এ সময় পুটখালী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি কামরুল ও বালুণ্ডা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কবিরুলের সমর্থকরা বাগবিত-ার একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কবিরুলের সমর্থক পাঁচ নেতাকর্মী আহত হন। আহতরা হলেন বালু-া গ্রামের ইরফান আলি, আবুজর, মোকারুল, আবু সিদ্দিক ও জালাল উদ্দিন।
আহতদের মধ্যে দুজনকে শার্শা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পাঠানো হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি রাসেল মিয়া জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
