যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে শান্তি রক্ষার্থে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন করার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফে নিজের লেখা কলামে এ কথা বলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা স্টারমার। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের সেনা মোতায়েন করব।
প্রায় তিন বছর ধরে ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। দীর্ঘ এ যুদ্ধে ইউক্রেনের ২০ শতাংশ ভূখণ্ডের দখল রাশিয়ার হাতে রয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এ যুদ্ধ অবসানের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে নতুন ট্রাম্প প্রশাসন। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসে সৌদি আরবে পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ আলোচনায় ইউক্রেন বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ফলে ইউরোপের নেতাদের আশঙ্কা ইউক্রেন যুদ্ধ নিরসনের দরকষাকষিতে ইউরোপকে পাশ কাটানোর প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে সতর্ক বাণী দিয়ে বলা হয়েছে, ইউরোপের দেশগুলোর উচিত নিজেদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও উদ্যোগ নেওয়া। স্টারমার বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখা ইউরোপ ও আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখার সমতুল্য। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে প্যারিসের বৈঠকে যোগ দেবেন স্টারমার। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের তিন বছর পূর্তির ঠিক আগেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হবে। ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাউন্সিল প্রধান আন্তোনিও কস্তা, ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন ও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুত্তেও এ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। তবে ট্রাম্পের ইউক্রেনবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি কিথ কেলগ শনিবার জানান, ইউক্রেন নিয়ে আলোচনায় ইউরোপ অংশগ্রহণ না করলেও তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে। এদিকে ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য সোমবার সৌদি আরব পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সেখানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।
