শিরিনের ১৬ ইসমাইলের ফেরা

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩৯ এএম

১০০ মিটার স্প্রিন্টটা একেবারে নিজের করে নিয়েছেন শিরিন আক্তার। সেই ২০১৪ সাল থেকে শুরু। মাঝখানে একবার শুধু তাকে হারিয়ে দিয়েছিলেন সুমাইয়া দেওয়ান। এর বাইরে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ও সামার মিটে শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণœ রেখেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই স্প্রিন্টার। সোমবার জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকায় জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দিনে ১২.০১ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্রুততম মানবীর মুকুট ধরে রেখেছেন ৩০ বছর বয়সী শিরিন। পেছনে ফেলেছেন একই সংস্থার সুমাইয়াকে। এদিকে ইংল্যান্ড প্রবাসী ইমরানুর রহমানের অনুপস্থিতিতে ১০০ মিটার মিটে শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেয়েছেন নৌবাহিনীর মোহাম্মদ ইসমলাইল। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো দ্রুততম মানব হয়েছেন আগের তিন মিটে ইমরানের কাছে হেরে যাওয়া স্প্রিন্টার। সেরা হতে ইসমাইল সময় নেন ১০.৬১ সেকেন্ড।

মনে হতে পারে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কেউ তৈরি হননি বলেই প্রতিবারই উইনিং ল্যাপ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন শিরিন। বিষয়টা ঠিক ততটা সহজ নয়। নিজেই বললেন, ‘সারা বছর নিজেকে তৈরি করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। আমি এখন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোচ আব্দুল্লাহ হেল কাফি স্যারের অধীনে ট্রেনিং করি। চেষ্টা ও পরিশ্রমের কারণেই সেরা হতে পারি। এমন না যে অন্যরা ভালো করছে না। ১০০ মিটার দৌড়ানো সহজ নয়। দেখবেন মাইক্রো সেকেন্ডের ব্যবধানে জিততে হচ্ছে। এবারও সুমাইয়ার সঙ্গে ব্যবধান অনেক বেশি ছিল না। এতেই বোঝা যায় অন্যরাও ভালো করছে, পরিশ্রম করছে।’

সুমাইয়া দ্বিতীয় হয়েছেন ১২.১৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে। অর্থাৎ তার কাছ থেকে ভালো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জিততে হয়েছে শিরিনকে। স্প্রিন্ট শেষে দেশের এবং সংস্থার পতাকা জড়িয়ে শিরিন প্রিয় কোচ কাফিকে কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি, ‘আমার কোচ আব্দুল্লাহ হেল কাফি স্যার সবসময়ই আমাকে সহযোগিতা করেন। আমি তার অধীনেই অনুশীলন করি। এ ছাড়া বিকেএসপির ডিজি স্যার আমাকে ট্রেনিংয়ের সুযোগ করে দিয়েছেন। বেশ কিছু মানুষ আছে যারা পেছন থেকে আমাকে অনেক বেশি সহযোগিতা করেছেন। তাদের সহযোগিতার কারণে আজকে আবার আমি সেরা হয়েছি।’

ছেলেদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে গত কয়েক বছর ধরেই রাজত্ব ছিল ইমরানুর রহমানের। যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠার সুবাদে আধুনিক সংস্কৃতি ও সুযোগ-সুবিধায় নিজেকে গড়ে তোলা ইমরান দেশে বারবারই সেরা হয়েছেন। এবার নানা কারণেই খেলেননি। ফলে সুযোগ তৈরি হয় অন্যদের সামনে। আগের তিনবারই ইমরানের কাছে হার মানা ইসমাইলও নিজেকে তৈরি করেন শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেতে। যদিও কাজটা সহজ হয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন নৌবাহিনীরই এক সতীর্থ রাকিবুল হোসেন। ইসমাইল অবশ্য অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পেছনে ফেলেন রাকিবুলকে। ইসমাইলের চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে ছিলেন না রাকিবুল। মাত্র দশমিক শূন্য দুই সেকেন্ড পেছনে থেকে শেষ করেন তিনি। আর এই ইভেন্টে তৃতীয় হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জুবাইল ইসলাম। তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর সেরা হতে পেরে ভীষণ খুশি ইসমাইল

কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মাত্র দেড় মাস আগে সন্তান প্রসব করা তার স্ত্রী হার্ডলার তামান্নাকে, ‘আবার দ্রুততম মানব হয়েছি, ভালো লাগছে। এজন্য আমার কোচ কাফি স্যারকে অনেক ধন্যবাদ।  আমার স্ত্রী হার্ডেলসের রাণী তামান্না। সেও আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে এবং আমি বাবা হওয়ার পর তার কাছ থেকে আরও সাহায্য পেয়েছি। আমার আজকের এই অর্জনে তাদের অবদানও অনেক।’

ইমরানের সঙ্গে ফারাকটা কীসে জানতে চাইলে বলেন, ‘সে একটি ভিন্ন ক্রীড়া সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠেছে। কোচ, ট্রেনার, অনুশীলন, আধুনিক সরঞ্জামাদি, নিউট্রিশন, সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে। এটাই আসলে আমাদের সঙ্গে তার পার্থক্য গড়ে দেয়।’

এদিকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দিনে হয়েছে একটি জাতীয় রেকর্ড। গত বছর গড়া নিজের রেকর্ড ভেঙেছেন নৌবাহিনীর গোলাম সারোয়ার। শটপুটে গত বছর ১৪.৮৯ মিটার অতিক্রম করে রেকর্ড গড়েছিলেন সারোয়ার। এরপর থেকেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আকাক্সক্ষা তীব্র হয়। প্রায় এক বছর বিকেএসপিতে অনুশীলন করে নিজে চোখে পড়ার মতো উন্নতি করেছেন সারোয়ার। সোমবার ১৫.৫০ মিটার অতিক্রম করে সেরা হন। রেকর্ডের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এই অর্জনে নিজের যেমন চেষ্টা ও পরিশ্রম ছিল, একই সঙ্গে আমার কোচ মেহেদী স্যারের অনেক অবদান। নিজেকে বারবার ছাড়িয়ে যেতে পেরে সামনে আরও ভালো করার আকাক্সক্ষা তৈরি হচ্ছে। ভালো প্রস্তুতির সুযোগ পেলে ১৭ মিটার ছোঁয়াও আমার পক্ষে সম্ভব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত