সড়কে উচ্ছৃঙ্খল তরুণ-কিশোররা বেপরোয়া বাইক চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি শিশুকে চাপা দেওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়। এমন ঘটনার প্রতিবাদ করেন এক দম্পতি। তারই রেশ ধরে রাজধানীর উত্তরায় প্রকাশ্যে ওই দম্পতিকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে বাইক চালকরা। আহত দুজনের একজন হলেন, নাসরিন আকতার ইপ্তি ও অপরজন মেহেবুর হাসান।
স্থানীয় ও পুলিশ বলছে, হামলায় জড়িতরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আহত দম্পতিদের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৯ নম্বর রোডে এই ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ওই দুই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গণধোলাই দিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের কাছে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। এই ঘটনায় নাসরিন আকতার ইপ্তি বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানায়।
এই বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মোটরসাইকেলে উচ্চ শব্দ করে দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাওয়ার সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা একটি শিশুকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে পাশ দিয়ে অপর একটি মোটরসাইকেলে যাওয়া দম্পতি প্রতিবাদ করে। এরপর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাদের লোকবল ডেকে ওই দম্পতির ওপর দেশি অস্ত্র (রামদা) দিয়ে হামলা করে। রাতেই হামলাকারীদের মধ্য থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি একজনকে গতকাল বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আহত নাসরিন আকতার ইপ্তি বাদী হয়ে রাতেই একটি মামলা করেছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. মোবারক হোসেন (২৫) ও রবি রায় (২২)। গ্রেপ্তার মোবারকের বাড়ি শেরপুরের শ্রীবরদী থানায়। তিনি টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় ভাড়া থাকেন আর রবি রায়ের বাড়ি টঙ্গী পশ্চিম থানার হাজীর মাজার এলাকায়। অপর গ্রেপ্তার আলফাজ হোসেন শিশির (২২)। ঘটনার পর পরই সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা ও জলপাই রংয়ের শার্ট পরিহিত দুই যুবক (কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য) ওই দম্পতিকে জনসম্মুখে রামদা দিয়ে আঘাত করছে। এ সময় জীবন বাঁচাতে ওই নারী হাতজোড় করে সন্ত্রাসীদের কাছে মাফ চাইছে- এমনটাই ভিডিওতে দেখা গেছে।
উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে উত্তরা এলাকায় ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাইয়ে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের সঙ্গে ঝামেলা বাধিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। তারা বিকট শব্দ করে উত্তরার সড়কগুলোতে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালায়। এতে উত্তরায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
