চলন্ত বাসে ডাকাতির ঘটনায় মামলা

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৪ পিএম

চলন্ত বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে মির্জাপুর থানায় মামলা হয়েছে। ডাকাতির শিকার ওমর আলী নামের এক ভুক্তভোগী এই মামলা করেন বলে জানিয়েছেন মির্জাপুর থানার ওসি মোশারফ হোসেন।

ডাকাতির কবলে পড়া ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে মতে, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর গাবতলী থেকে বাসটি ছেড়ে আমিনবাজার ও বাইপাইল থেকে বেশকিছু যাত্রী উঠায়। সর্বশেষ গাজীপুরের চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড থেকে আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী উঠে। এরপর বাসটি রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা করার ১০ মিনিটের মধ্যে ৮-৯ জনের একটি ডাকাত দল বাসের লাইট বন্ধ করে সবাইকে জিম্মি করে লুণ্ঠন শুরু করে।

সেসময় ডাকাতদের একজন বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বাসটি বেশ কিছুক্ষণ চলার পর উল্টোদিকে টার্ন নেয়। প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় নিয়ে যাত্রীদের সবকিছু লুট করে বাসটি কালিয়াকৈর থানার নন্দন পার্ক সংলগ্ন এলাকায় থামিয়ে ডাকাতরা চলে যায়। পরে বাসের ড্রাইভার বাসটি ছাড়তে না চাইলেও যাত্রীদের চাপে বাসটি টাঙ্গাইলের দিকে রওনা দেয়। সামনেই মির্জাপুর থানা অবগত হয়ে ভুক্তভোগীরা মির্জাপুর থানায় ঘটনাটি জানাতে যায়। সেই সময় ঊধ্বর্তন কেউ না থাকায় ডিউটি অফিসার তাদের অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু বাসটি মহাসড়কে থাকায় অন্যান্য যাত্রীদের তাড়াহুড়োয় তারা অপেক্ষা না করে চলে যান। রাজশাহী পৌঁছে বাসযাত্রীদের কয়েকজন বাসটি নাটোরের বড়াইগ্রাম থানায় ঢুকান। সেখানকার পুলিশ বাসচালক, সুপাইভাইজার ও হেলপারকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে।

ডাকাতের কবলে পড়া বাসের যাত্রী মো. সোহাগ হাসান বলেন, ডাকাত দলের সদস্যদের মধ্যে দুই জনের হাতে রিভলভার সাদৃশ্য অস্ত্র ও বাকিদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। ডাকাতরা বাসের অন্তত ৫ জন যাত্রীকে হাতে ও বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আহত করে। তার দুই সিট সামনে বসা দুই নারী যাত্রীর স্বর্ণালঙ্কার লুণ্ঠন করার সময় ডাকাতদের কয়েকজন ওই দুই নারীর স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়ে শ্লীলতহানি করে। তবে ওই বাসে কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান।

মামলার বাদী ওমর আলীর ভাষ্য, এই ঘটনার সঙ্গে বাসের স্টাফরা জড়িত থাকতে পারে। ডাকাতির আগে দুজন বাসের হেলপারের সঙ্গে গোপন আলোচনা করেন। আমি ডাকাতি হওয়া টাকা ফেরত চাই, যারা নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি করেছে তাদের বিচার চাই।

টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর অংশের সাথে সম্পর্কযুক্ত বলে ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানিয়েছেন। তাই আমরা মামলা নিয়েছি। আমাদের টিম কাজ করছে। আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যে এঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারবো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত