পদ্মা পারের কথা বলে চরে গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণ

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৯ এএম

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাট থেকে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রলারে উঠে পদ্মার চরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। গত রবিবার সন্ধ্যায় পদ্মা নদীর জনমানবহীন ডোমরাখালী চরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারী পদ্মা সেতুর উত্তর থানায় অভিযোগ করেন। পরদিন সে অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার অবধি ওই মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন- মো. জামাল মোল্লা (২৩), জব্বার শেখ (১৮) ও ইয়ামিন মুন্সী (১৯) । আরেক আসামি আবু বকর সিদ্দিক (২২) এখনো পলাতক রয়েছেন।

জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ (২২) তার শ্বশুরবাড়ি শিবচর উপজেলার উত্তর চরজানাজাত যাওয়ার উদ্দেশ্যে মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাটে নৌকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় আবু বকর সিদ্দিক ও জামাল মোল্লা তাকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ট্রলারে ওঠান। কিছু সময় পরে ইয়ামিন এবং জব্বারও ট্রলারে ওঠেন। সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে জনমানবহীন পদ্মা নদীর ডোমরাখালী চরে নিয়ে চারজন মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন তাকে। পরবর্তী সময়ে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তাকে মাওয়া পুরাতন কোস্টগার্ড স্টেশনের পাশে ট্রলার থেকে নামিয়ে দেন এবং কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে ওই রাতেই থানায় অভিযোগ করেন ওই নারী। 

পদ্মা সেতু (উত্তর) থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, গত রবিবার এক নারী তার স্বামীসহ থানায় হাজির হয়ে চারজন যুবক কর্র্তৃক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে। এ ঘটনায় পরদিন সোমবার থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। সোমবার রাতেই পুলিশ পদ্মা সেতু উত্তর থানা এলাকার যশলদিয়া ও কবুতরখোলা পদ্মা নদীর পাড় থেকে অভিযুক্ত জামাল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার রাতে অপর দুই অভিযুক্ত ইয়ামিন ও জব্বারও ধরা পড়েন পুলিশের হাতে।

ওসি জানান, পলাতক আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত নৌকা এবং আলামত হিসেবে একটি জিও ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং তার ব্যবহৃত জামাকাপড় জব্দ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত