সাভারে অপারেশন ডেভিল হান্টে গ্রেপ্তার ছাত্র হত্যা মামলার দুই আসামি ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মুন্সি এবং বিএনপির সাবেক এমপির ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক আলোচনা চলছে।
পুলিশ জানায়, সারাদেশে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টের অংশ হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে আশুলিয়ার গাজীরচট আড়িয়াড়ার মোড় এলাকা থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ও যুবলীগের কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সেলিম রেজা (২৫) ও যুবলীগ কর্মী সবুজ উদ্দিন খান (২৬)। এদের মধ্যে সেলিম রেজা আশুলিয়া থানার হত্যাচেষ্টা ও সবুজ খান হত্যা মামলার আসামি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশুলিয়া থানার একজন এসআই জানান, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আবুল হোসেন মুন্সি আমাকে মুঠোফোনে কল দিয়ে বেশ কয়েকবার অনুরোধ করেন। আমি উনাকে জানাই, গ্রেপ্তারদের ছাড়া সম্ভব নয়।
এদিকে গ্রেপ্তারদের কারাগারে পাঠানোর আগেই তদবিরের বিষয়ে গ্রেপ্তাররা বলেন, ‘আমাদের গ্রেপ্তারের পর আবুল হোসেন মুন্সি থানায় এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ওসি সাহেবের কাছে সুপারিশ করেছেন। কিন্তু ওসি বলছে কোনোভাবে ছাড়ানো যাবে না; কিন্তু রিমান্ড ও মামলা নরম করতে কিছু করা যাবে। এরপর দেড় ঘণ্টা হলেও আবুল হোসেন মুন্সি আর দেখা করেননি।’
তারা আরও বলেন, ‘বিএনপির সাবেক সাংসদ সালাউদ্দিন বাবুর পিএস শরীফুল ইসলাম খোঁজ নিয়েছেন এবং অনুরোধ করেছেন মামলা ধরন পাল্টে দিতে, সেজন্যই আবুল হোসেন মুন্সী নিজে এসে তদবির করেছেন।’
তদবিরের বিষয়ে সাবেক বিএনপির সাংসদ সালাউদ্দিন বাবুর পিএস শরীফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। কারও সঙ্গে আমার কোনো কথাও হয়নি। থানায় আরও একজন গ্রেপ্তার হয়েছে, সে আমাদের লোক। এখন নিজের লোকের বিষয়ে তো একটু কথা বলতেই হয়। তাদের আমি চিনিনা।
তদবিরের বিষয়টি অস্বীকার করে আবুল হোসেন মুন্সী বলেন, আমি নিজস্ব একটা কাজের জন্য থানায় গিয়েছিলাম। থানায় গিয়ে জানতে পারি, আমার এলাকার দুটি ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আমি ওদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে চলে আসি।
ওদেরকে ছাড়াতে না পেরে, মামলা হালকা বা যাতে রিমান্ড না হয় সে বিষয়ে তদবির করেছেন জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
আশুলিয়া থানার ওসি নুর আলম সিদ্দিক বলেন, আমি আইনের মানুষ। আইন অনুসারে থানা চলবে। এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ আসেনি, আসলেও লাভ নাই। আমি আইন অনুসারে কাজ চালিয়ে যাবো।
