‘জঙ্গি নাটকে’ ৫ বছর ধরে কারাগারে দুই খুবি শিক্ষার্থী, দাবি পরিবারের

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৪৮ পিএম

পাঁচ বছরেরও অধিক সময় ধরে কারাবন্দী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ২ শিক্ষার্থীর মুক্তি চেয়েছেন সহপাঠী, পরিবারের সদস্য, শিক্ষক ও আইনজীবীরা। রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে এক ব্রিফিংয়ে তারা এ দাবি করেন। এসময় স্বজনরা বলেন, পরিকল্পিতভাবে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে দুই শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট করা হয়েছে। 

কারাবন্দি ২ শিক্ষার্থী হলেন— ‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিনের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মাদ অনিক ও পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনের ১৭ ব্যাচের মো. মোজাহিদুল ইসলাম রাফি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খুবি শিক্ষার্থী আহমদ উল্লাহ মৃধা। তিনি বলেন, ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ হয় অনিক ও রাফি। অনিক ওই দিন সকালে রুমে ঘুমিয়ে ছিল। হলের অফিস ক্লার্ক এনামুলকে দিয়ে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তাকে গল্লামারি ঘোষ ডেয়ারির সামনে নিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। আর রাফিকে গ্রেপ্তার করে তার ভাড়া বাসা থেকে, যেখানে তিনি স্ত্রীসহ বসবাস করতেন।

তাদের ১৭ দিন গুম করে রেখে ২৫ জানুয়ারি আদালতে তোলে পুলিশ। এর মধ্যে প্রশাসন জঙ্গি নাটকের স্ক্রিপ্ট সাজিয়ে একে একে ৭টি মামলা দেয় তাদের নামে। যার মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনা। অথচ ওই সময় খুলনার কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। 

ব্রিফিংয়ে ছাত্রদের পক্ষের আইনজীবী আইনজীবী আক্তার জাহান রুকু বলেন, নিম্ন আদালতে দুটি মামলায় রায় দিয়েছে। এর একটি মামলায় উভয়ের ১০ বছর এবং অন্য আরেকটি মামলায় উভয়ের ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এই রায় নিয়ে আমরাই হতবাক হয়েছি। কারণ জঙ্গি দেখিয়ে যে এজাহার হয়েছে তা যুক্তিতর্কের সময়ই টেকেনি। শুধু জঙ্গি শব্দ থাকার কারণেই এ ধরনের ফরমায়েশি রায় হয়েছে। আমরা আপিল করেছি। 

মোজাহিদুল ইসলাম রাফির বাবা রেজাউল করিম বলেন, আমরা মামলা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। ১৪/১৫ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। আমার ছেলেটা নির্দোষ। অথচ পুলিশ নিজেদের ইমেজ রাখতেই এ ধরনের জঙ্গি নাটক সাজিয়েছে। তার জীবন থেকে প্রায় ৫ বছর নষ্ট হয়ে গেছে। আমি আমার ছেলের মুক্তি চাই।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত