শান্ত-মিরাজদের দিকে তাকিয়ে পাকিস্তান

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৪১ এএম

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হেরে কার্যত শেষ হয়ে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির এবারের যাত্রা। কাগজে-কলমে আসরে টিকে থাকতে রিজওয়ান-বাবরদের ভরসা এখন একমাত্র বাংলাদেশ। আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের প্রার্থনা করবেন পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা। নিউজিল্যান্ড তাদের পরের দুই ম্যাচে হারলে এবং শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারালে রান রেটের সমীকরণ উতরে সেমিতে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে পাকিস্তানের। দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে মাত্র ২৪১ রানের পুঁজি জড়ো করতে সমর্থ হয় পাকিস্তান। জবাবে বিরাট কোহলির রোমাঞ্চকর অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ৪৫ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছোঁয় ভারত।

আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনজুরিতে পড়া ফখর জামানের জায়গায় ইমাম-উল-হক আসেন বাবর আজমের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করতে। ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ার পর হার্দিক পান্ডিয়ার শিকার হয়ে ২৩ রানেই থেমে যান বাবর। পরের ওভারে চাচা ইনজামামের মতো রানআউটে আত্মাহুতি দিয়ে দলকে বিপদে ফেলে আসেন ইমাম। সেখান থেকে পাকিস্তান বিপদ সামাল দেয় সৌদ শাকিল ও অধিনায়ক রিজওয়ানের শতরানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে। নিয়মিত স্ট্রাইক রোটেট অব্যাহত রেখে ১৪৪ বলে ১০৪ রানের জুটি গড়েন দুজন।  ৭৭ বলে ৩ চারে ৪৬ রান করে থামেন রিজওয়ান। ৮ রানের মাথায় শাকিলকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান হার্দিক। ৭৬ বলে ৫ চারে তার ব্যাটে আসে ৬২ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস। এরপর কুলদিপ ও জাদেজার ঘূর্ণিতে ধস নামে পাকিস্তানের ইনিংসে, ১৫৯ থেকে ২০০-তে পৌঁছতে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে। দ্বিতীয় দফায় পাকিস্তানের ত্রাতা হন বিপিএল মাতিয়ে যাওয়া খুশদিল শাহ। টেলএন্ডারদের ঝড়ো ব্যাটিং সঙ্গে নিয়ে খুশদিলের ধৈর্যশীল ইনিংসে আড়াইশ ছোঁয়া পুঁজি জড়ো করে পাকিস্তান। ৩৯ বলে ২ ছক্কায় খুশদিল খেলেন ৩৮ রানের ইনিংস। ভারতের হয়ে তিন উইকেট শিকার করেন কুলদিপ যাদব। দুই উইকেট শিকার করেন হার্দিক পান্ডিয়া।

রান তাড়ায় ভারতের নেতৃত্ব দেন বিরাট কোহলি। শচিন টেন্ডুলকার ও কুমার সাঙ্গাকারার পর ইতিহাসের তৃতীয় ও দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ১৪ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁন তিনি। রোহিত শর্মা ও শুবমান গিল মিলে শুরুটা ভালো করেন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ২০ রান তুলে শাহিনশাহ আফ্রিদির দুর্দান্ত ইয়র্কারে পরাস্ত হয়ে ফেরেন রোহিত। ৩১ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ৭৫ বলে ৬৯ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি গড়েন শুবমান ও বিরাট। তৃতীয় উইকেটে শ্রেয়াস আইয়ারের সঙ্গে তার ১২৮ বলে ১১৪ রানের কার্যকর জুটিতে জয়ের পথ সহজ হয়ে যায় ভারতের।  প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই হয়তো বেশি জ¦লে ওঠেন বিরাট। শেষ বলে ২ রানের প্রয়োজনে চার হাঁকিয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৫১তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এ ছাড়া শুবমান গিল করেন ৫২ বলে ৭ চারে ৪৬ রান। শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাটে আসে ৬৭ বলে ৫৬ রানের ইনিংস। শাহিনশাহ আফ্রিদি পান দুই উইকেট। এ জয়ে আসরের প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত