নাগরিক প্রশ্নবাণে আইনশৃঙ্খলা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:১৮ এএম

একটি সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। তা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বড় রকমের প্রশ্নের মুখে পড়ে। যেকোনো মূল্যে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা দূর করতে হবে। গত ক’দিনে রাজধানী নগরীসহ দেশের কয়েক শহরে ও গ্রামে জননিরাপত্তার ব্যত্যয় ঘটায় নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ, মন্ত্রণালয় এবং খোদ সরকারের উদ্দেশে চলছে প্রশ্নবাণ। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম আইনশৃঙ্খলার বিচ্যুতি বিষয়ে সরব। নাগরিকের ক্ষোভেরও শেষ নেই।

দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সদস্যদের শিথিলতার সুযোগে অপরাধ বাড়ছে অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগের দাবিতে সোমবার দিনভর বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার পদত্যাগে আলটিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। তার আগে রবিবার মধ্যরাতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান চিত্র নিয়ে গত রবিবার রাত ৩টায় হঠাৎই নিজের বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সে সময়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘সন্তোষজনক’ বলেও দাবি করেছেন।

অবশ্য দেশ পরিচালনায় কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যর্থতা আছে, এটা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন  যে, আমাদের আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। তবে চেষ্টা এবং আত্মজিজ্ঞাসা আছে। ব্যর্থতা উত্তরণের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা আছে, তাড়না আছে।’ অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, ‘একটি গোষ্ঠী চায় না বাংলাদেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাক। এমন অস্থিতিশীলতার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’

রবিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বনশ্রীতে আনোয়ার হোসেন (৪৩) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি করে তার সঙ্গে থাকা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউই আটক হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় হয়। কিছুদিন আগে এক বাসে নারীদের শ্লীলতাহানির খবর পাওয়া যায়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে এ রকম অপরাধের খবর আসছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হয় অনুপস্থিত বা নিষ্ক্রিয় ছিল। অন্যদিকে কক্সবাজারে বিমান বাহিনীর নির্মাণাধীন ঘাঁটিতে স্বাভাবিকের ব্যতিক্রম ঘটনায় নাগরিক নিহতের ঘটনা আলাদা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায় রয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হলো অপরাধী দমন করা। যেখানে অপরাধ হচ্ছে সেখানে তাদের মনিটরিং থাকা। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিক থেকে এমন কিছুই দেখা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে দায়িত্বগুলো পালন করা দরকার ছিল, সেগুলো তারা পালন করেনি। তাই দেশে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত