'প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও তরুণদের তেজদীপ্ত দৃঢ়তায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। স্বৈরাচার হটিয়েছি, এখন বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে একতার রাজনীতি চালু করব।' আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
তারা আরও বলেছেন, তাজা রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচার হটিয়েছি। রক্ত দেওয়া একবার শিখে গিয়েছি, আর কেউ পিছু হঠাতে পারবে না। সংসদে কে যাবে তা নির্ধারণ করবে এ দেশের জনগণ, ভারত নয়। আমরা সমৃদ্ধ দেশ গঠনের প্রতিজ্ঞা করছি।
নতুন দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা কেবল সামনের দিকে এগোতে চাই। সামনের কথাই বলতে চাই, স্বপ্নের কথা বলতে চাই। স্বৈরাচার পতন ঘটানোর আন্দোলনে স্লোগান উঠেছিল 'তুমি কে আমি কে, বিকল্প বিকল্প'। সেই বিকল্পের যায়গা থেকেই আমাদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠিত হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম আরো বলেছেন, আমরা বিভাজন ভেঙে দিয়েছি। এ জাতিকে আর বিভাজিত করা যাবে না। কোনো ভারতপন্থি, পাকিস্তানপন্থি থাকবে না। গণপরিষদ নির্বাচন করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে গত ৫৩ বছরে আমরা জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারিনি। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে গিয়েছে। আমরা স্বাধীন পুলিশ, বিচার বিভাগ গড়তে পারিনি। একটি স্টেট গড়তে পারিনি। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে চলেনি। আমরা তরুণরা এই বাংলাদেশকে গঠন করব।
তিনি বলেন, বিদেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে। কিন্তু কোনো প্রেসক্রিপশনের সম্পর্ক থাকবে না। আমাদের ছেলেরা যখন রক্ত দেওয়া শিখে গিয়েছে, তখন তাদের কেউ দমাতে পারবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, আমরা যদি বাংলাদেশকে সুসংগঠিত করতে চাই তাহলে আমাদের সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাহলে আগামীর বাংলাদেশ হবে ঐক্যের বাংলাদেশ। হাসিনা এদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংগঠিত করতে হবে। খুনি হাসিনার বিচার আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে করতে হবে।
যুগ্ম সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, নাহিদ গণতন্ত্রের ইমাম। যিনি নির্যাতনের মুখেও মাথা নত করেননি। আগামীর বাংলাদেশ হবে গণতন্ত্রের বাংলাদেশ। এটাই দেশবাসীর প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি।
এদিন বিকেল ৪টার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিএনপি-জামায়াতসহ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি, সমাজের বিশিষ্টজন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যবর্গসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির অগ্রভাগে থাকা তরুণ-তরুণীরা এই দল গঠনের উদ্যোক্তা।
বরবাদের টিজারে শাকিবের চমক
বিমানে অক্সিজেন স্বল্পতা, মিয়ানমারের আকাশ থেকে ঢাকায় জরুরি অবতরণ