এক মৌসুম আগেও ফুটবল দুনিয়ায় অপ্রতিরোধ্য মনে হতো ম্যানচেস্টার সিটিকে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই দুর্দান্ত দলের গতি যেন ধীর হয়ে এসেছে। এবারের মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে পড়ার পর, কারাবাও কাপের স্বপ্নও গুঁড়িয়ে গেছে আগেই। এখন একমাত্র ভরসা এফএ কাপ, যা কিছুটা হলেও মর্যাদা রক্ষা করতে পারে দলটির।
গ্রীষ্মকালীন দলবদলে সিটির সিদ্ধান্তগুলো এখন প্রশ্নবিদ্ধ। ৮১.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে জুলিয়ান আলভারেজকে আতলেতিকো মাদ্রিদে ছেড়ে দিলেও, পরিবর্তে বড় কোনো তারকাকে দলে ভেড়ায়নি তারা। মাত্র ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডে আনা হয় ব্রাজিলিয়ান তরুণ সাভিনহোকে, আর ফ্রি ট্রান্সফারে ফিরে আসেন ৩৪ বছর বয়সী ইলকাই গুনদোগান। মূলত পেপ গার্দিওলা মনে করেছিলেন, তার বর্তমান দলই যথেষ্ট শক্তিশালী। কিন্তু বাস্তবতা তাকে ভুল প্রমাণ করেছে।
ইনজুরির ধাক্কায় সিটি শিবির কার্যত বিধ্বস্ত। রদ্রির লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর, জন স্টোনস, রুবেন ডিয়াস, নাথান আকে ও মানুয়েল আকাঞ্জির মতো সেরা ডিফেন্ডাররাও একে একে মাঠের বাইরে চলে যান। কেভিন ডি ব্রুইনা, আর্লিং হালান্ড, জ্যাক গ্রিলিশ, কাইল ওয়াকারসহ একাধিক তারকারও ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়ার ফলে দলের ছন্দপতন ঘটে। এত বড় ইনজুরির ধাক্কা সামলে ওঠা কোনো দলের পক্ষেই সহজ নয়।
শুধু ইনজুরি নয়, দলবদলের ভুল সিদ্ধান্তও সিটির পতনের অন্যতম কারণ। ক্লাবের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর চিকি বেগিরিস্তাইন ও সিইও ফেরান সোরিয়ানো নতুন খেলোয়াড় আনতে চাইলেও গার্দিওলা গ্রীষ্মে দলকে অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ছিলেন। পরে জানুয়ারিতে নিকো গঞ্জালেজ, আব্দুকোদির খুসানোভ, ওমর মারমুশ ও ভিতর রেইসকে দলে আনা হলেও, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আত্মবিশ্বাস হারানো সিটি রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৬-৩ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নেয়।
অক্টোবরে টটেনহ্যামের কাছে ২-১ গোলে হারের পর থেকে একে একে পাঁচ ম্যাচে পরাজিত হয় সিটি। শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকার আশা তখনই ফিকে হয়ে যায়। গার্দিওলার দল যে দুর্দান্ত গতিতে ফুটবল খেলে, তার জন্য খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তার দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ই ৩০-এর ঘর পেরিয়ে গেছেন। একসময় যারা প্রতিপক্ষের জন্য দুঃস্বপ্ন ছিলেন, তারাই এখন বয়সের ভারে ধীর হয়ে যাচ্ছেন।
গার্দিওলার জন্য এটি হবে এক অস্বস্তিকর মৌসুম। ২০১৬-১৭ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো কোনো বড় শিরোপা ছাড়াই শেষ করতে হতে পারে তার সিটির অধ্যায়। তবে, এফএ কাপ এখনো হাতছাড়া হয়নি। শনিবার চ্যাম্পিয়নশিপ দল প্লাইমাউথের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই এখন গার্দিওলার একমাত্র লক্ষ্য। এই শিরোপা জিতলেই হয়তো কিছুটা স্বস্তি মিলবে, নইলে এবারের মৌসুম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এক হতাশার গল্প হিসেবে।
‘ভারতের কারণে তোমাদের বেতন হয়’ –সমালোচকদের ধুয়ে দিলেন গাভাস্কার
গান-বাজনা ভীষণ পছন্দ মেসির; মাঠ থেকে পরিবার- সর্বত্রই সঙ্গীত