জামালপুরে বাস-সিএনজি চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৫, ০৭:৪৮ পিএম

বাস শ্রমিকের ওপর শিক্ষার্থীদের হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে বাস-সিএনজি চলাচল বন্ধ করেছে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতারা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।

জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা। আইনের আওতায় না নিয়ে আসা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে জানিয়েছেন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ।

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুরের দিকে শ্রমিকের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জার্নিস, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মালিক সমিতির সহ-সভাপতি খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ, শ্রমিক ইউনিয়নের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান, আনোয়ার হোসেন শাহীন।

সরেজমিন টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, শহরের বাইপাস এলাকার বেসিক শিল্প-নগরীর সামনে জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসগুলো ঠাঁই দাড়িয়ে রয়েছে। শ্রমিক ও নেতাদের ভিড়। যাত্রীরা টার্মিনালে এসে ফিরে যাচ্ছে। অনেকেই বাসের অপেক্ষায় বসে আছে।

ব্যবসায়িক কাজে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এসেছেন জামালপুর শহরের হিরু সড়ক এলাকার কাপড়ের ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কাপড়ের ব্যবসায়ীদের জন্য এখন ভরা মৌসুম। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা যেতে পারছি না। তাই ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।’

টার্মিনালে কথা হয় গাইবান্ধা জেলার পোশাক শ্রমিক খোরশেদ আলমের সঙ্গে। গাজীপুর কোনাবাড়ি এলাকায় কাজ করেন। ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। ছুটি শেষ কারখানায় যোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘দেওয়ানগঞ্জ হয়ে জামালপুর এসেছি। এসে দেখি বাস বন্ধ। আজকে যোগদান করতে না পারলে চাকরি থাকবে না। অনেক বড় বিপদ হবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জামালপুর জেলা শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক আফরিন জান্নাত আঁখি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কারও ওপর চড়াও হবে এটা সংগঠনের নিয়মে নেই। শ্রমিকরা আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলা করতে আসে। আমরা সহনশীলভাবে নিজেদের কন্ট্রোল করি। তা না হলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারতো। কোনো শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। যাতায়াতে বেশকিছু ট্রেন রয়েছে। বাস বন্ধ থাকায় ট্রেনগুলো সঠিক সময়ে যাতায়াত করছে। সাধারণ মানুষের সাময়িক সমস্যা হলেও বাস সার্ভিস উন্নয়নে স্থায়ী সমাধান হবে।’

এ প্রসঙ্গে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামধারী সন্ত্রাসীরা শ্রমিকের ওপর হামলা করেছেন। এর প্রতিবাদে জামালপুরে ধর্মঘট চালু হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় নিয়ে না আসা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’

জামালপুর সদর থানার ওসি আবু ফয়সল মো. আতিক বলেন, ‘এ নিয়ে আমরা নিয়ে আলোচনায় বসেছি। আশা করি খুব দ্রুত সমাধান হবে।’

উল্লেখ্য, ২ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের জয়রামপুর এলাকায় রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে অটোরিকশার ধাক্কায় দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটে। প্রতিনিয়তই রাজিব পরিবহণের প্রাণহানি ও বাস সার্ভিস সংস্কারের দাবিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত