চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ‘ডাকাত সন্দেহে’ দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে ওই যুবকদের ছোড়া গুলিতে স্থানীয় পাঁচ বাসিন্দা গুলিবিদ্ধ হন বলে দাবি এলাকাবাসীর। যাদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা ১ নম্বর ওয়ার্ডে পিটুনি ও গুলি ছোড়ার এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে নিহত দুজন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কর্মী এবং তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি। উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি জায়েদ হোসেন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ঘটনার পরপরই নিহত দুজন ছাড়াও গুলিবিদ্ধ পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবশ্য আহতদের চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পিটুনিতে নিহত দুজন হলেন নেজাম উদ্দিন ও আবু সালেহ। জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচিত এ দুজনেরই বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলের একটি ছবিতে দেখা যায়, নিহত নেজামের লাশের পাশে পড়ে রয়েছে ব্যবহৃত রিভলবার। যার পুরো ম্যাগাজিন খালি। জানা গেছে, দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া থাকার পর গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে এলাকায় ফিরে আসেন নেজাম ও সালেহ।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তারাবি নামাজের পর রাত ৯টার দিকে কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ১০-১২ জনকে নিয়ে এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা এলাকায় যান নেজাম উদ্দিন। এ সময় এলাকাবাসী স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে এলাকায় ‘ডাকাত হানা দিয়েছে’ বলে ঘোষণা দেয়। একপর্যায়ে এলাকার লোকজন নেজাম ও তার সহযোগীদের ঘিরে ফেলে। এ সময় নেজামের সহযোগীরা এলাকাবাসীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে এ গোলাগুলি। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে অবস্থা বেগতিক দেখে নেজাম ও তার সহযোগীরা অদূরে রাখা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোর দিকে এগোতে থাকে। তবে এর মধ্যেই ১০০-১৫০ এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা ও ধারালো বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে নেজাম ও তার সহযোগী আবু সালেহসহ কয়েকজনকে ঘিরে ধরে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মারধরে নেজাম ও আবু সালেহ ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ পাঁচজনের মধ্যে ইকবাল ও ওবায়দুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহত অন্য তিনজন হলেন আব্বাস উদ্দিন, মামুনুর রশিদ ও নাসির উদ্দিন। তাদের কারও বুকে, কারও হাতে, আবার কারও পায়ে গুলি লেগেছে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের সবাইকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও সাতকানিয়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। তারপর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম এবং সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন বিশ্বাস।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাঞ্চনা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি জায়েদ হোসেন বলেন, ‘তাদের (নিহত দুজন) সালিশি বৈঠকৈর নামে ফন্দি করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে মারধর করে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর মাইকে ডাকাত হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।’
সাতকানিয়া থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতরা আরও কয়েকজনকে নিয়ে অটোরিকশায় নখোলা চূড়ামণি গ্রামে গেলে মাইকে ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এলাকাবাসী ঘিরে ধরে তাদের পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুজনের।’
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সনতু জানান, নিহতদের মধ্যে সালেকের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ পাঁচটি মামলা আছে। নেজামের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
