চট্টগ্রামের বাজারে সয়াবিন তেলের অস্থিরতা কাটাতে হার্ডলাইনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন। বেঁধে দেওয়া দরে ভোজ্য তেল বিক্রি নিশ্চিত করতে সরাসরি বাজার মনিটরিংয়ে নেমেছেন সিটি মেয়র ও জেলা প্রশাসক। কোনো ব্যবসায়ী সিদ্ধান্ত অমান্য করলে জেল-জরিমানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা প্রশাসক। তারপরও ভোগান্তি কাটছে না ভোক্তাদের।
ভোজ্য তেলের এই সংকট চলে আসছে প্রায় দুই মাস ধরে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে রমজান মাসে সয়াবিন তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। কিন্তু দেখা গেছে, রমজানে ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসিপত্রের দাম নাগালের মধ্যে থাকলেও সয়াবিন তেলের বাজারে চলছে অস্থিরতা। জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার মনিটরিং টিম বিভিন্ন বাজারে দফায় দফায় অভিযান চালালেও তাতে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি।
শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম একসঙ্গে খাতুনগঞ্জে বাজার পরিস্থিতি তদারকিতে যান। সেখানেও বিভিন্ন দোকানে খবর নিয়ে বোতলজাত তেলের সংকটের চিত্র দেখতে পান। গত মঙ্গলবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সার্কিট হাউজে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। সভায় সব তেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী নেতারা, ক্যাব, ভোক্তা অধিকারসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু দেখা গেছে অধিকাংশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানই সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন।
আমদানি ব্যয়, পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচাদি পর্যালোচনা করে সভায় আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এতে আমদানিকরা প্রতি লিটার ১৫৩ টাকায়, পাইকারি বিক্রেতারা ১৫৫ টাকায় ও খুচরা বিক্রেতারা ১৬০ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কারসাজির মাধ্যমে যদি সয়াবিন তেলের সংকট তৈরি করা হয় তাহলে ব্যবসায়ীদের গুদামে অভিযান চালানো হবে এবং তেল মজুদ করে রাখার বিষয় ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের জেল দেওয়া হবে।
এদিকে গতকাল বুধবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ভোজ্য তেল সংকটের কোনো উন্নতি নজরে আসেনি।
নগরীর কাজির দেউড়ি বাজারে যান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি সয়াবিন তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ ও দাম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে খোলা ভোজ্য তেল বিক্রি বা মজুতদারি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে প্রশাসন কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
বাজার পরিদর্শন শেষে গতকাল মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে প্রতিটি বাজারে মনিটরিং টিম কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা অন্যায়ভাবে বেশি দামে তেল কিনবে না। যদি কেউ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা চায়, তাহলে জনগণকে প্রতিবাদ করতে হবে এবং আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট টিমকে জানাতে হবে।’
মেয়র বলেন, রমজান সংযমের মাস, কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জনগণকে স্বস্তি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যতদিন বাজার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসে, ততদিন আমাদের অভিযান চলবে।
এদিকে চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যার নেতৃত্বে বুধবার নগরীর ব্যাটারি গলি বাজারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পণ্যের মূল্য তালিকা না রাখায় ১২টি দোকানকে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরীন ফেরদৌসীর নেতৃত্বে বহদ্দারহাট এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে খাতুনগঞ্জে অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স চকবাজার, বড়পুল বাজার, পাহাড়তলী বাজার এবং পুরাতন পোর্ট বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে।
