গাজায় আটক জিম্মিদের মুক্তি দিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই হুঁশিয়ারিকে শেষ সতর্কবার্তা আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, জিম্মিদের মুক্তি না দিলে হামাসকে নরকের পরিণতি ভোগ করতে হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন। সেই সঙ্গে গাজায় বন্দি থাকা জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হামাসের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, কাজটি শেষ করতে প্রয়োজনীয় সবকিছু আমি ইসরায়েলকে পাঠিয়েছি। আমি যা বলেছি, তা যদি তোমরা না করো, তাহলে একজন হামাস সদস্যও নিরাপদ থাকবে না। তবে ইসরায়েলকে কী ধরনের সহায়তা পাঠিয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি। ট্রাম্প আরও বলেন, পরে নয়, সব জিম্মিকে এখনই মুক্তি দাও। যেসব মানুষকে তোমরা হত্যা করেছ, সবার মরদেহ অনতিবিলম্বে ফেরত দাও। অন্যথায় এর দায়ভার তোমাদের বহন করতে হবে। জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হামাসের সঙ্গে গোপনে সরাসরি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নাম না প্রকাশ করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বুধবার রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন। রয়টার্স জানায়, তারা এ আলোচনার বিষয়ে হোয়াইট হাউজকে জিজ্ঞেস করেছিল। উত্তরে হোয়াইট হাউজ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জিম্মিবিষয়ক বিশেষ দূত অ্যাডাম বোলারের হামাসের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বলা হয়েছে। আলোচনার আগে ইসরায়েলের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে তাদের অনুসরণ করা কূটনৈতিক নীতি ভেঙেছে। সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসে না ওয়াশিংটন, কিন্তু এবার হামাসের সঙ্গে আলোচনায় বসে সেই নিয়ম ভাঙল তারা। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সালে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা দেয়। এই আলোচনায় বিষয়ে অবহিত দুই কর্মকর্তা জানান, কাতারের রাজধানী দোহায় আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে বোলার ও হামাসের কর্মকর্তারা সেখানে বৈঠক করছেন।
